Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৭, ২০২৬

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক, শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ মতুয়া সমাজের একাংশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক, শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ মতুয়া সমাজের একাংশ

রাজ্যে ‘এসআইআর’-এর ভোটার তালিকা নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়া নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে অভিযোগপত্র হস্তান্তর করেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বেছে বেছে মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মতুয়াদের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে ‘এসআইআর’ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠেছে। শাসক তৃণমূল দল বারবার অভিযোগ করেছে, ভোটার তালিকায় বিশেষভাবে সংশোধনের এ প্রক্রিয়া বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। ফলে, মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও বিজেপি এ নিয়ে বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে, মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এসবের মধ্যেই মতুয়া মহাসংঘের এক নেতা শান্তনু ঠাকুর মতুয়া কার্ড বিতরণ করেন। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, বহু মতুয়ার নাম তালিকায় নেই। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ গেলে, সেখানে আমাদের ১ লক্ষ লোক যদি বাদ হয়, এটুকুই সহ্য করতে হবে।’ সসাংসদের এ মন্তব্যকে মতুয়ারা মোটেই পছন্দ করেননি।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহা সংঘের আরেক নেতা ও তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর প্রতিবাদ সভার ডাক দেন। সভা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে কলকাতা সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দেন, তবু সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হয়নি মতুয়ারা। তাই এদিন শান্তনু ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হন মতুয়ারা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মতুয়া মহলে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এসআইআর বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা মেটাতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাওয়া হতে পারে। কিন্তু শান্তনু ঠাকুর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব বা এসআইআর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরং আলোচনার মূল বিষয় ছিল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ‘এসআইআর’ ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করার উপায় নিয়ে।

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মতুয়া সম্প্রদায়ের আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়া, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। এরই মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় আতঙ্কিত মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য নতুন বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরে আরএস মাঠে ‘মতুয়া ধর্ম মহাসম্মেলন’-এ তিনি সরাসরি জানালেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে একটিও মতুয়ার নাম বাদ দিতে দেব না। তবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নামও থাকবেই না।’ তিনি আরো জানান, সিএএ-র আওতায় ইতিমধ্যেই ৬০ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন, এবং ১ হাজারের বেশি শংসাপত্রও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্যে আবার ফিরে এসেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কটাক্ষ। তিনি বলেন, ‘এসআইআর নিয়ে মানুষকে লাগাতার ভুল বোঝানো হচ্ছে। এক দিকে সরকার সিএএ-র বিরোধিতা করছে, অন্য দিকে মানুষকে আবেদনও করতে বলছে। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!