Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ, বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত হামাসের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ, বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত হামাসের

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গতমাসে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একদিকে যেমন হামাসরা যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে, তেমনই ইজরায়েলও ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছে। এর মধ্যে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে এল হামাস। সেই কারণেই বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখল। শনিবার আরও ৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল হামাসের।

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের অভিযোগ, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বাড়িতে ফেরানোর ব্যাপারে অযথা বিলম্ব করাচ্ছে ইজরায়েলি বাহিনী। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের ওপর এখনও গুলিবর্ষণ অব্যাহত। গাজায় নির্দিষ্ট কিছু মানবিক সহায়তা প্রবেশেরও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শুধু হামাসরাই নয়, নিজেদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়ার ব্যাপারে ইজরায়েলি সেনা যে বাধা সৃষ্টি করছে, দাবি করেছেন অনেক ফিলিস্তিনি কর্তাও। ফিলিস্তিনিদের যখন আবাসস্থলের জরুরি প্রয়োজন, সেই সময় তাদের গাজা থেকে বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই আশঙ্কা প্রতিদিন আরও তীব্র করে তুলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের সময়ে অধিকাংশ ফিলিস্তিনিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। তারপর ট্রাম্প বলেন, সব ফিলিস্তিনিকেই গাজা থেকে সরে যেতে হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবে। গাজার বাসিন্দাদের উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপারে ইজরায়েলের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনা চলছে।

ট্রাম্পের এই পরামর্শের কারণেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে হামাস। ট্রাম্প যদি তাংর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার দায়িত্ব ইজরায়েলকে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে আবার শক্তি প্রয়োগ করবে ইজরায়েল। এই পরিস্থিতিতে শনিবার জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখল হামাসরা। এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘‌পরবর্তী সময়সূচি অনুযায়ী শনিবারের জিম্মি মুক্তির ব্যাপারটা যাতে হয়, তার জন্য এখনও দরজা খোলা। চুক্তির শর্তপূরণে ইজরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মধ্যস্থতাকারীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে।’‌

এদিকে, ট্রাম্প বলেছেন, শনিবার যদি জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করে দেবেন এবং গাজায় পুনরায় নারকীয় পরিস্থিতি দেখা দেবে। আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতে হামাসরা ভাবছে, তাহলে বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিয়ে লাভ কী। জিম্মি মুক্তি নিয়ে হামাসের ঘোষণায় ইজরায়েলেরও সন্দেহ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!