- দে । শ
- জানুয়ারি ১৬, ২০২৫
চৈতন্যদেবের দীক্ষাগ্রহণ উৎসব পালন কাটোয়ায়
প্রাচীন প্রথা ও পরম্পরা মেনে কাটোয়ায় গৌরাঙ্গ মন্দিরে চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস দীক্ষার দিন স্মরণ উপলক্ষ্যে পয়লা মাঘ থেকে শুরু হল উৎসব। দু’দিন ধরে চলা এই উৎসবকে ঘিরে মন্দিরে দেশ-বিদেশের প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। সকাল থেকে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। চৈতন্য পার্ষদ গদাধর দাসের প্রতিষ্ঠিত চৈতন্যমহাপ্রভুর দারুবিগ্রহকে সন্ন্যাস বেশে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। নানান আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাপ্রভুর সন্ন্যাস দীক্ষার দিন স্মরণ করা হয়। গৌরাঙ্গ মন্দিরের কর্তৃপক্ষ মহাপ্রভুর সন্ন্যাস দীক্ষার উৎসব পালনের জন্য প্রথা অনুসারে সন্ন্যাস কীর্তনের আয়োজন করেন। সন্ন্যাস বেশে সজ্জিত চৈতন্যদেবের বিগ্রহ দর্শনে ভক্তদের জন্য মন্দির খোলা রাখা হয়। তবে দীক্ষা গ্রহণের দিন হিসেবে পয়লা মাঘকে বেছে নেওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন ইতিহাস গবেষক থেকে শুরু করে বৈষ্ণব সাহিত্যের পড়ুয়ারা। কাটোয়ার প্রাচীন ইতিহাস গবেষক রণদেব মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘বৈষ্ণব পদকর্তাদের লেখায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মাঘ চৈতন্যদেব দীক্ষাগ্রহণ করেন। মন্দির কমিটি কেন যে পয়লা মাঘ পালন করেন, তা ব্যাখ্যার অতীত।’
১৫১০ খ্রিস্টাব্দে মাঘ মাসের শুক্লাতিথিতে নিমাই নবদ্বীপের বারকোনা ঘাট থেকে নৌকাযোগে কাটোয়ায় পৌঁছে কিছুটা পায়ে হেঁটে পরম বৈষ্ণব কেশব ভারতীর আশ্রমে আসেন। সেই পুণ্যভূমি গৌরাঙ্গ বাড়ি নামে সকলের কাছে পরিচিত। পুণ্যতোয়া গঙ্গার গন্ধেশ্বরী ঘাটে অশ্বত্থ গাছের তলায় দীক্ষাগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়। সন্ন্যাস স্থলে আজও গুরু কেশব ভারতীর সমাধি-সহ চৈতন্যদেবের মস্তক মুণ্ডনের স্থান সবই রক্ষিত আছে। সন্ন্যাস গ্রহণের পর চৈতন্যদেব মানব প্রেম বিলোতে সপার্ষদ রাঢ়বঙ্গ ভ্রমণে বের হন। চন্দ্রশেখর আচার্য, গদাধর পণ্ডিত, অবধূতচন্দ্র, শ্রীমুকুন্দ, ব্রহ্মানন্দের মত মহাজ্ঞানী মহাজনদের উপস্থিতিতে ক্ষৌরকার মধু পরামানিক নিমাইয়ের মস্তক মুণ্ডন করেন। নামকরণ হয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য। এই সন্ন্যাসস্থলিতেই ১৮৮১ সালে তৈরি হয় শ্রীগৌরাঙ্গ মন্দির। মন্দির কমিটির সম্পাদক ব্রজেশ চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘প্রত্যেক বছর আমরা যথাযথ মর্যাদায় চৈতন্যদেবের দীক্ষাদিবস পালন করি। এখানে রয়েছে চৈতন্য পরিকর গদাধর দাসের সমাধি। আছে গদাধর দাস প্রতিষ্ঠিত গৌরাঙ্গের দারুবিগ্রহ। এখানে গৌরাঙ্গের নিত্য সেবা হয়।’ পুণ্যলাভের আশায় হাজির হওয়া চৈতন্য ভক্ত রাজশ্রী ভৌমিক, বীণা সরকাররা বলছিলেন, ‘চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের দিনে হাজির হতে পেরে আমরা ধন্য।’
❤ Support Us





