Advertisement
  • দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

জাহাজের ধাক্কায় ডুবলো ট্রলার, নিখোঁজ কাকদ্বীপের পাঁচ মৎস্যজীবী । বাংলাদেশ নৌ-সেনার বিরুদ্ধে উঠছে অভিযোগ, তদন্তে উপকূলরক্ষী বাহিনী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাহাজের ধাক্কায় ডুবলো ট্রলার, নিখোঁজ কাকদ্বীপের পাঁচ মৎস্যজীবী । বাংলাদেশ নৌ-সেনার বিরুদ্ধে উঠছে অভিযোগ, তদন্তে উপকূলরক্ষী বাহিনী

প্রতীকী চিত্র

ভারত–বাংলাদেশ জলসীমান্তে গভীর সমুদ্রে ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা থেকে মাছ ধরতে বেরোনো একটি ভারতীয় ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। ওই ট্রলারে থাকা ১৬ জন মৎস্যজীবীর মধ্যে ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো পর্যন্ত পাঁচ জন নিখোঁজ। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। উদ্ধার পাওয়া মৎস্যজীবীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্ক, অন্ধকার আর অনিশ্চয়তার ভয়াল রাতের ছবি।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের নাম ‘এফ বি পারমিতা দশ’। জানা গিয়েছে, ১৩ ডিসেম্বর নামখানা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। রাতের দিকে আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে উদ্ধার পাওয়া মৎস্যজীবীদের একাংশের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে আলো নিভিয়ে একটি বড় জাহাজ দ্রুতগতিতে তাঁদের ট্রলারের দিকে এগিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে ধাক্কা লাগে ট্রলারটিতে। প্রচণ্ড ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে ট্রলারটি জল ভর্তি হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের অতলে তলিয়ে যায়।একাধিক মৎস্যজীবী সমুদ্রে ছিটকে পড়েন। উদ্ধার পাওয়া মৎস্যজীবীদের আরও অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর জলে ভাসতে থাকা মানুষজনকে উদ্ধার না করেই বাংলাদেশি জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

দুর্ঘটনার কিছু পরে কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে থাকা কাকদ্বীপ ও সংলগ্ন অঞ্চলের অন্য ভারতীয় ট্রলারগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাঁদের তৎপরতায় ১১ জন মৎস্যজীবীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ প্রত্যেকেরই বাড়ি নামখানা ও তার আশপাশের এলাকায়। তাঁদের সকলেরই বাড়ি নামখানা ও সংলগ্ন এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। খবর পৌঁছতেই পরিবারগুলোর মধ্যে কান্না আর উৎকণ্ঠার আবহ ছড়িয়েছে। উপকূল এলাকায় প্রহর গুনছেন পরিবার-পরিজনেরা, কবে মিলবে প্রিয়জনদের খবর।

যদিও বাংলাদেশের সূত্রের দাবি, ভারতীয় ট্রলারটি আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু সেই দাবির মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, দুর্ঘটনার পর যদি ট্রলারটি সীমা লঙ্ঘন করেই থাকে, তা হলে জলে পড়ে থাকা মৎস্যজীবীদের উদ্ধার বা আটক না করে কেন বাংলাদেশি জাহাজটি দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে গেল। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশি নেভি বা কোস্টগার্ড আলো নিভিয়ে ট্রলারটিকে ধাক্কা মারে। বহু মৎস্যজীবী জলে পড়ে যান। তাঁদের উদ্ধার না করেই জাহাজটি ফিরে যায়। পরে ভারতীয় ট্রলার এসে উদ্ধার কাজ চালায়। এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ। কীভাবে ঠিক দুর্ঘটনা ঘটল এবং ধাক্কার সময় প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!