- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ৪, ২০২৩
সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন সিকিম, হড়পা বানে তিস্তায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ ভেসে গেল, নিখোজ ২৩ সেনা জওয়ান, ৪১টি সেনাদের গাড়ি
চরম বিপর্যয়ের মুখে সিকিম। উত্তর সিকিমে লোনক হ্রদে মেঙভাঙা বৃষ্টির জেরে দু’কুল ছাপিয়ে ভয়াবহ স্রোত নিয়ে বইছে তিস্তা। তিস্তা নদীর দু’পাশে যা কিছু আছে, সবই ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। প্রবল বেগে ভয়ঙ্কর তিস্তা এবার নেমে আসছে উত্তরবঙ্গের সমতলে। এর ফলে পাহাড়ের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়িতে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হল, তিস্তার গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ। এর ফলে সিকিমের সঙ্গে বাকি ভারতের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার ভোরে উত্তর সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টি শুরু হয়। মেঘভাঙা বৃষ্টির বিপুল পরিমাণ জল লোনক হ্রদ ধরে রাখতে পারেনি। ফলে বাঁধ ভেঙে সেই জল সরাসরি চলে আসে তিস্তায়। তার পরই হিমবাহ গলিত জলে পুষ্ট তিস্তায় অতিরিক্ত জল প্রবল বেগে নীচে নেমে আসতে শুরু করে। তাতেই শুরু হয় ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা। সূত্রের খবর, জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৫ থেকে ২০ ফুট। সেনাসূত্রে জানা গেছে, জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে সিংথামের কাছে বারদাং সেনা ছাউনিতে পার্ক করে রাখা ৪১টি গাড়ি। ২৩ জন সেনা জওয়ানও জলে ভেসে গিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে সেনা।
সিকিম থেকে তিস্তা সমতলের প্রবেশ জলপাইগুড়ি জেলায় প্রবেশ করেছে। হড়পা বানের বিপুল পরিমাণ জল জলপাইগুড়ি দিয়ে বহমান তিস্তায় নতুন করে জলস্ফীতি ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বহু মানুষের। সেচ দফতর জলপাইগুড়িতে লাল সতর্কতা জারি করেছে। একই অবস্থায় সিকিমেও। সিকিম সরকার মানুষকে তিস্তার ধারেকাছে যেতে বারণ করেছে। পাহাড়ে এখনও বৃষ্টি চলছে। তবে ভোরের পর থেকে আর নতুন করে মেঘভাঙা বৃষ্টির খবর নেই। যদিও ভোরের মেঘভাঙা বৃষ্টির জলের তীব্র গতিতে তিস্তা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সিকিমের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের মূল সংযোগরক্ষাকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ককে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিস্তার এই ভয়াবহ রূপের ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তিস্তার জলের তোড়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ বিচ্ছিন্ন হশে পড়েছে। সড়কের বেশ কিছুটা অংশ ইতিমধ্যেই গ্রাস করে নিয়েছে তিস্তা। নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধি পেলে জাতীয় সড়কে সম্পূর্ণ ভাবে ধুয়েমুছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
❤ Support Us





