- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ২২, ২০২৫
ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক ঘন্টা পরে পুতিনের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূলত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যাধিক শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপের মধ্যে এই বৈঠক হল। বৈঠকের পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ভূ–রাজনৈতিক বিষয়, নেতৃত্বের যোগাযোগ এবং জনগনের মনে আবেগ এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে।’ সকালে লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল সম্পর্ক।
তিন দিনের রাশিয়া সফরে গিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই সফরে তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকারি বাণিজ্য আন্তঃসরকারি বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা কমিশনের ২৬তম অধিবেশনের সহ–সভাপতিত্ব করেন। মস্কোতে ভারত–রাশিয়া ব্যবসায়িক ফোরামের সভাতেও ভাষণ দেন।
ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকারি বাণিজ্য আন্তঃসরকারি বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা কমিশনের ২৬তম অধিবেশনের সহ–সভাপতিত্ব করার সময় বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবেলায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘গত চার বছরে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্য পাঁচগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে এই বাণিজ্যের পরিমান ছিল ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। তাই আমাদের জরুরিভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।’
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরামর্শ দেন যে, শুল্ক বাধা অপসারণ, লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের সমাধান এবং আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ পরিবহন করিডোর, উত্তর সমুদ্র রুট এবং চেন্নাই–ভ্লাদিভোস্টক সামুদ্রিক করিডোরের মতো রুটের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবং বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের সংশোধিত বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দুই দেশই ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে বলে জানান জয়শঙ্কর।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেছেন যে, ভারতের রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের যুক্তিতে নয়াদিল্লি বিস্মিত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকানরা গত কয়েক বছর ধরে বলে আসছে যে রাশিয়া থেকে তেল কেনাসহ বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার জন্য আমাদের সবকিছু করা উচিত। ২০২২ সালের পর রাশিয়ার সাথে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি নয়। আমার মনে হয় দক্ষিণে কিছু দেশ আমাদের থেকে এগিয়ে আছে। ভারত রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা নয়, সবচেয়ে বেশি কেনে চীন। তাছাড়া, ভারত নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা।’
❤ Support Us






