Advertisement
  • এই মুহূর্তে
  • জুলাই ১০, ২০২৬

ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং গ্রেফতারির আশঙ্কা সত্ত্বেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছরের আওয়ামী লীগ নেত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক বরিষ্ঠ নেতাও দেশে ফিরবেন এবং প্রয়োজনে আত্মসমর্পণ করবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ফিরলেই ওরা আমাকে আটক করতে পারে, এমনকি আমাকে হত্যা করতেও পারে। তবু আমি ফিরব। আমার দলের নেতা-কর্মীরা আজ চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। মৃত্যু যদি আসেই, তবে তা আমার দেশের মাটিতেই আসুক। যে দেশে আমার মা-বাবা শায়িত, যে মাটিতে তাঁদের রক্ত মিশে আছে, সেই মাটিতেই আমার শেষ হোক।”
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে কিছু ভুল হতেই পারে। কিন্তু কোনটি ঠিক, কোনটি ভুল— সেই বিচার করার অধিকার মানুষের। আমি সেই দায়িত্ব জনগণের হাতেই তুলে দিলাম। মানুষ চাইলে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, ভোটে লড়ার সুযোগ না-ও দিতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কেন? আমরা যদি সত্যিই খারাপ কাজ করে থাকি, তার বিচার জনগণই করুক।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংরক্ষণবিরোধী গণআন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা ছেড়ে তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করে আকাশপথে ভারতে আসেন এবং বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।
হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই সরকারের আমলেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। একই মামলায় তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক প্রাক্তন সদস্যকেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ করা হয়, যার ফলে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের কোনও প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।
বাংলাদেশের বাইরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লিতে থেকেই বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠক ও কর্মসূচির মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন শেখ হাসিনা। রয়টার্সকে তিনি জানান, অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর লক্ষ্য, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করে আবারও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করা।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!