Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২৪, ২০২৩

মণিপুরে নতুন করে অশান্তি, গ্রেফতার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার। কেন্দ্রের কাছে ২০ কোম্পানি বাহিনী চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মণিপুরে নতুন করে অশান্তি, গ্রেফতার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার। কেন্দ্রের কাছে ২০ কোম্পানি বাহিনী চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

মণিপুরে নতুন করে অশান্তি শুরু হওয়ার পর, সোমবার ইম্ফলে গ্রেফতার হওয়া তিন জনের মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন মণিপুর বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার তেলভুম থাংজালাম হাওকিপ রয়েছেন। মিশ্র জনবসতি এলাকা নিউ চেকন বাজারের ইম্ফলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তার পরেই এই গ্রেফতারির ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ঘটনায় প্রকাশ, কিছু দুষ্কৃতী বিক্রেতাদের দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে একটি বিবাদের সৃষ্টি হয়, তার পরে কিছু মানুষ কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যদের পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

উত্তেজনার পরে নিরাপত্তা কর্মীরা দুই সশস্ত্র ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে , এদের সঙ্গেই  প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক হাওকিপকে গ্রেপ্তার করে। মণিপুরের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনজনকেই গোলমালের সময়  “দোকানদারদের ভয় দেখানোর” অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাওকিপ ২০১৭ সালে মণিপুর বিধানসভায় বিজেপির টিকিটে হেঙ্গলেপ কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি চুরাচাঁদপুর জেলায় অবস্থিত। ২০২০ সালে, তিনি, অন্য দুই বিধায়কের সাথে, বিজেপি ছেড়ে দেন, বিধানসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং  কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে, ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, তিনি শিবসেনায় যোগ দেন। বিধানসভায় তাঁর আগের মেয়াদে তিনি কংগ্রেসের টিকিটে হেঙ্গলেপ আসনে ১৯৯৮ সালের উপনির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। বিধানসভায় তাঁকে তখন ডেপুটি স্পিকার করা হয়।

এদিকে, সোমবারের ঘটনার পর, দমকলকর্মীরা ১৬ জাট রেজিমেন্টের কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁদের পাঁচ সহকর্মীর উপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে কারফিউ চলাকালীন মণিপুরে নতুন করে হিংসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ মে, বুধবার, বিষ্ণুপুর জেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং অন্য দু’জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কিছু দুষ্কৃতী তিনটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে ২৩ মে বিষ্ণুপুর জেলার ফৌবাকচাওতে। তার প্রতিশোধ হিসাবে, অন্য সম্প্রদায়ের কিছু যুবক চারটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এই হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, জেলা কর্তৃপক্ষ বিষ্ণুপুর, ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলাগুলিতে কারফিউ শিথিল করার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। এর আগে ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল।

বুধবার ভোরে সশস্ত্র যুবকরা বিষ্ণুপুর জেলার মইরাং-এর কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়েছে। হট্টগোল শুনে মইরাং-এর ত্রাণ শিবিরের কয়েকজন বন্দী কি হচ্ছে তা দেখতে বেরিয়ে আসেন। এদের মধ্যে এক যুবকের নাম তোয়াজাম চন্দ্রমণি, চুড়াচাঁদপুর ঠেংরালেইকাইতে গুলিবিদ্ধ হয়, গুলি তার পিঠে  ঢুকে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তি মারা যান বলে জানা গেছে।

আহত যুবককে হাসপাতালের কাছে নিয়ে আসার পর উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা কোনও ক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগের দিন কিছু লোকের মধ্যে সংঘর্ষের পর ৪ মে থেকে মণিপুরে আবার হিংসা ও সংঘর্ষের ঘটনার আরম্ভ হয়। এই ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার পরেও হিংসার ঘটনা ঘটছে।

রাজ্য হিংসার ঘটনা বন্ধ করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন, কেন্দ্রের কাছে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী চেয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!