- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১২, ২০২৪
সদর্থক প্রশাসনিক বৈঠক।দ্রুত শুরু হবে কালনা-শান্তিপুর সেতুর কাজ
জমি অধিগ্রহণ হয়েছে ৯৭ শতাংশ। বাকিটা হওয়া সময়ের অপেক্ষা। ভাগীরথীর উপর পূর্ব বর্ধমানের কালনা ও নদিয়ার শান্তিপুরের সঙ্গে সংযোগকারী সেতু তৈরির কাজ দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কালনা ২নং ব্লকের সাতগাছি পঞ্চায়েত অফিসে একটি বৈঠক হল। সেখানে প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছাড়াও ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা, পঞ্চায়েত সদস্যরা ও জমিদাতারা যোগ দেন। পূর্ত দপ্তর দ্রুত কাজ শুরু করবে। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, অধিগৃহীত জমিতে কেউ চাষ-আবাদ করবেন না। যাঁরা করেছেন তাঁরা যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সে বিষয়ে পঞ্চায়েত ভাবনাচিন্তা করবে।
বেশকিছু নির্মাণ রয়েছে। সেগুলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। আকবর মোল্লা নামে এক ব্যক্তি ২৩ শতক জমি দিয়েছেন। বৈঠকে হাজির হয়ে তিনি বলেন, ‘ভাল কাজে জমি দিয়েছি। তবে আগে জানলে চাষ করতাম না।’ ৪৭ লক্ষ টাকা বিঘা দরে ৪ শতক জমি দিয়েছেন রাজু ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় আমার ৭৭ শতক জমি রয়েছে। সরকার যথেষ্ট দর দিয়েছে। পুরো জমিটা নিতে চাইলে দিয়ে দেব।’ বৈঠকে উঠে আসে অধিগৃহীত জমি জবরদখলের বিষয়টি। কালনার মহকুমাশাসক শুভম আগরওয়াল জানান, ‘সেতুর জন্য কেনা জমির যে যে জায়গা দখল হয়েছে তা ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত সমিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হবে।’
সেতুর জন্য সংশ্লিষ্ট কালনা ২নং ব্লকের সাতগাছি পঞ্চায়েতের ৪টি মৌজা থেকে ৪৭.৭৩ একর জমির প্রয়োজন। এরমধ্যে বারাসত মৌজায় ৬.৩৪০৫ একর, হাঁসপুকুর মৌজায় ১৩.৭১৯৭ একর, কুলিয়াদহ মৌজায় ১৫.৯১৫৯ একর ও পূর্ব সাহাপুর মৌজায় ১২.০৭৩৫ একর জমি রয়েছে। এখনো ১১ শতক জমি কিনতে হবে। তারজন্য প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সবমিলিয়ে লক্ষ্যসীমার ৯৭ শতাংশ জমি অধিগৃহীত হয়েছে। বাকি ৩ শতাংশ জমি ‘আলোচনার মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা যাবে’ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কালনা ২নং ব্লকের যুগ্ম বিডিও অরুণাভ চৌধুরি। তিনি বলেন, ‘সদর্থক আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
সেতুটি নির্মাণের জন্য মহকুমা প্রশাসনের তরফ থেকে একটি ড্রোন সমীক্ষা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে সেতুর জমিতে সাড়ে তিনশর উপর গাছ রয়েছে। একটি আমবাগানও রয়েছে। এইসব গাছের কী ব্যবস্থা হবে, সে ব্যাপারে বন দপ্তরের সঙ্গে প্রশাসন আলোচনা করবে। উল্লেখ্য যে, এখানে সেতু তৈরির কথা ঘোষণা করা হয় বাম জমানায়। যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৭ সালে সেতু তৈরির সিদ্ধান্তে শিলমোহর দেয় তৃণমূল সরকার। পরের বছর কালনায় একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
❤ Support Us






