- দে । শ
- ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
লোকসভার পর রাজ্যসভায় পাস ‘জি রাম জি’ বিল । রাতভর ধর্ণায় তৃণমূল সাংসদ সব বিরোধীরা
দিল্লিতে জাঁকিয়ে শীত । মাথায় টুপি, গায়ে সোয়েটার, কারও কাঁধে শাল — কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই পুরনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে সারারাত ধর্নায় বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা । ‘জি রাম জি’ বিলের বিরোধিতা এবং মহাত্মা গান্ধি ও বাঙালির অপমানের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালেও তাঁদের ধর্না কর্মসূচি চলছে । তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টা এই ধর্না চলবে ।
ধর্নাস্থলে রাখা হয়েছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মা গান্ধীর ছবি । সেই ছবির সামনে বসে রয়েছেন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, মমতাবালা ঠাকুর, দোলা সেন, সাকেত গোখল-সহ আরও অনেকে । প্রবল শীতের মধ্যেও তাঁরা ধর্না চালিয়ে যাচ্ছেন ।
ভোর পাঁচটা নাগাদ ধর্নাস্থল থেকেই একটি ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ । সেখানে তিনি বলেন, “সংসদ ভবনের সিঁড়িতে আমাদের ধর্না কর্মসূচি চলছে। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপমান আমরা মেনে নেব না ।”
ভিডিয়োর শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মহাত্মা গান্ধী অমর রহে।”
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে সাগরিকা বলেন, সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই বুলডোজ়ার কৌশলে একের পর এক বিল পাস করানো হচ্ছে । তাঁর কথায়, “বিরোধীদের ডাকা হচ্ছে না, বৈঠক হচ্ছে না। শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল ঠেলে পাস করানো হচ্ছে। মোদী সরকার দ্বিতীয়বার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করল ।”
প্রসঙ্গত, বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাস হয় ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ‘জি রাম জি’ বিল । এরপর রাজ্যসভায় বিল পেশ হতেই প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে হট্টগোল শুরু হয়। গভীর রাতে ধ্বনি ভোটে রাজ্যসভাতেও বিলটি পাস হয়ে যায় । তার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা ।
তাঁদের অভিযোগ, ‘জি রাম জি’ বিল কার্যত ১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্পকে ঠান্ডা ঘরে পাঠানোর চেষ্টা । পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিয়ে এবং প্রকল্পের চরিত্র বদলে বাঙালি ও জাতির জনক — উভয়েরই অপমান করা হয়েছে ।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার মনরেগা প্রকল্পকে নতুন মোড়কে চালু করতে চাইছে ‘জি রাম জি’ বিলের মাধ্যমে । নতুন বিলে ১০০ দিনের কাজের বদলে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ শ্রমিকরা অতিরিক্ত ২৫ দিনের মজুরি পাবেন । পাশাপাশি ১৫ দিনের বদলে সপ্তাহান্তে মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে ।
তবে বিরোধীদের আপত্তি মূলত দু’টি বিষয়ে । প্রথমত, মনরেগা প্রকল্পে সম্পূর্ণ অর্থ দিত কেন্দ্রীয় সরকার । কিন্তু ‘জি রাম জি’ বিলে ৬০:৪০ অনুপাতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে খরচ বহন করতে হবে, ফলে রাজ্য সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপবে । দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের নাম থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়াকে তাঁরা চরম আপত্তিকর ও অসম্মানজনক বলে মনে করছেন ।
এই সব অভিযোগ ও প্রতিবাদকে সামনে রেখেই তীব্র শীত উপেক্ষা করে সংসদের সিঁড়িতে তৃণমূল সাংসদদের ধর্না চলছেই ।
❤ Support Us





