- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
তুমুল বিরোধিতার মধ্যেই লোকসভায় পাশ ‘জি রাম জি’ বিল, নথি ছিঁড়ে প্রতিবাদ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের
মহাত্মা গান্ধীর নাম জড়িয়ে থাকা ‘মনরেগা’ প্রকল্পের নাম ও খোলনালচে বদলের লক্ষ্যে আনা ‘জি রাম জি’ বিল ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত সংসদ। বৃহস্পতিবার, বিরোধীদের প্রবল শোরগোলের মাঝে লোকসভায় বিলটি পাশ হওয়ায় আগুনে যেন ঘি পড়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা কোনোভাবেই এটি মেনে নিতে নারাজ। কক্ষের ভিতরে নথি ছিঁড়ে প্রতিবাদ দেখান, স্পিকারের বক্তব্যেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিরোধীরা দাবি করেছিলেন, বিলটি সরাসরি স্থায়ী সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো উচিত, যেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছে, আর প্রয়োজন নেই। এতে বিরোধীরা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। লোকসভায় পাশ হবার পর বিলটিকে এখন রাজ্যসভার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদ সূত্রে খবর।
এদিন, সকাল থেকেই বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা এ বিতর্কে সরব ছিলেন। কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, দক্ষিণ ভারতের দল ডিএমকে-এর টি আর বালু এবং সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব প্রবলভাবে বিলের বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ, মহাত্মা গান্ধীর নাম সরানো ‘জাতির পিতা’র প্রতি অবমাননা, পাশাপাশি নতুন আইনটি রাজ্যগুলোর উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাবে। তাঁরা মনে করেন, গ্রামীণ এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নয়া বিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সরকার কেবল নেহরুদের নামে আইন করে এসেছে, এখন তাঁরা আমাদের সমালোচনা করছে। মোদি সরকার শুধুমাত্র কাজের দিকে মনোযোগী। মহাত্মা গান্ধীর নামের যথেচ্চ ব্যবহারের বদলে আমরা কার্যকর কর্মসংস্থান এবং দূর্নীতি দমনের বিষয়ে বেশি আগ্রহী।’ তিনি আরও বলেন, ‘মনরেগা এদতিন মূলত দুর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন আইনটি আনা হয়েছে এর সঙ্গে জড়িত মানুষদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর।’ এরপর কৃষিমন্ত্রী কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘কংগ্রেসই ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে হত্যা করেছে, কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে এবং জরুরি অবস্থা জারি করে গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করেছে।’
কেন্দ্রের এহেন মন্তব্যে জোরদার আন্দোলনের পথে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, তাঁরা ‘মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএ’ লেখা বিশাল ব্যানার হাতে গান্ধী মূর্তির কাছে থেকে মকর দ্বার পর্যন্ত পদযাত্রা করে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, ‘মোদি সরকার শুধুমাত্র জাতির পিতার প্রতি অবমাননা করেছে না, গ্রামীণ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের অধিকারও ধ্বংস করেছে। আমরা এ লড়াই চালাবো সংসদ থেকে রাস্তা পর্যন্ত।’ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেঙ্কটেশ্বরলু বলেন, ‘আজ সংসদে গণতন্ত্রের হত্যা হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে তারা তাঁর আদর্শকেও হত্যা করতে চাইছে।’
অন্যদিকে মোদি সরকারের বক্তব্য, নতুন ‘জি রাম জি’ আইন অনুযায়ী প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য অ-দক্ষ শ্রম করতে স্বেচ্ছা জানালে বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। আইন কার্যকর হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে রাজ্যগুলিকে নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ‘মনরেগা-তে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। রাজ্যগুলো শ্রমে বেশি খরচ করেছে, উপকরণ ক্রয়ে কম। আমরা শুধুমাত্র কার্যকর ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা আনছি।’ একই সঙ্গে এদিন সংসদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও প্রবর্তন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ‘সিকিউরিটিজ বাজার কোড বিল ২০২৫’ পেশ করেছেন। বিলটিতে ভারতের ‘সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫৬’, ‘ডিপোজিটরিজ আইন ১৯৯৬’ এবং ‘সিকিউরিটিজ চুক্তি আইন ১৯৫৬’ কে একত্রিত করে একক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।
❤ Support Us





