Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ১৮, ২০২৩

বিশ্ব জল অর্থনীতি কমিশনের সমীক্ষায় ভয়াবহ ইঙ্গিত, জল অপচয় বন্ধ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে বাড়বে খাদ্য সংকট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিশ্ব জল অর্থনীতি কমিশনের সমীক্ষায় ভয়াবহ ইঙ্গিত, জল অপচয় বন্ধ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে বাড়বে খাদ্য সংকট

খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে জলের সংকট।ফলে তার সরাসরি প্রভাব পরবে বিশ্বের খাদ্য ভান্ডারে।২০৫০ সালের মধ্যে, বিশ্বজুড়ে ১৬% কমে যেতে পারে খাদ্য শস্যের উৎপাদন। ‘গ্লোবাল কমিশন অন ইকনমিক্স অফ ওয়াটার’-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায়  ভয়াবহতার সেই ইঙ্গিত সুস্পষ্ট।

শুধু যোগানে নয়, বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্য সংকট।চিন এবং দক্ষিণ আমেরিকায় সেই সংকট হবে তীব্রতর।  জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য শস্য উৎপাদন হ্রাসের ফলে,  চিন সহ আশিয়ান সদস্যভুক্ত দেশগুলি, যার এখন খাদ্য শস্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক, তারা শস্য আমদানি করতে বাধ্য হবে। এর পেছনে ব্যবহারযোগ্য, পরিশ্রুত পানীয় জলের ঘাটতিকেই মূলত চিহ্নিত করা হয়েছে কিমশনের রিপোর্ট।  বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ভয়াবহ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী জল ভাণ্ডারের হ্রাসমানতা। অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে পরিশ্রুত জলের যে ভান্ডার আছে, তার পরিমাণ ক্রমশই কমছে। পাশাপাশি জলের অপচয় রোধে কোনো নিয়ন্ত্ণ সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে ভারতে ১১০০ থেকে ১১৯৭ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম) পরিশ্রুত জলের যোগান রয়েছে।এই মুহুর্তে দেশের যে দৈনন্দিন চাহিদা তা পূরণে সক্ষম এই জলভান্ডার। কিন্তু ২০৫০ সালের মধ্যে পরিশ্রুত জলের চাহিদা বেড়ে দাড়াবে ১৪০০ বিসিএমে।এই মুহূর্তে দেশে উৎপাদিত ফসল উৎপাদনে যে জলের প্রয়োজন, তার থেকে ব্যবহার হয় অনেক বেশী।অর্থাৎ সমস্যা মাত্রাতিরিক্ত জলের অপচয়। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাটির তলার জল জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে জলের ভাণ্ডার ক্রমশ কমছে। তাই অপচয় না কমালে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জলটুকুও একসময় পাওয়া যাবে না। ২০১৯ এর বিশ্ব জলসংকট সারণী অনুযায়ী জলস্তর সংকোচনের ক্ষেত্রে ভারতে বিশ্বের মধ্যে ১৩তম স্থানে । যা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কমিশনের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সমস্যা দূর করতে হলে ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডারের সংকটকে আগে স্বীকার করতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন, সুনির্দিষ্ট জল সংরক্ষণ পরিকল্পনা। আর তা কেন্দ্রীয় ভাবে করা প্রয়োজন। ভারতে তার একান্ত অভাব। কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণের কথা বললেও তা বাস্তবায়নে আন্তরিকতার অভাব স্পষ্ট। দ্বিতীয়ত,  কৃষকদের বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে হবে। প্রসঙ্গত, ভারতে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি চার্জ অত্যন্ত বেশি। যে কারণে, কৃষকরা ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের ওপর  বেশি নির্ভরশীল। ফলে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচের দায় সরকার নিলে পাম্প ব্যবহার করে পুকুর বা অন্য কোনো জলাশয়ের  জল তাঁরা ক্ষেতে ব্যবহার করতে পারবেন।

ভারতের জলের ভাণ্ডারের সংকট আজকের নয়।  বহুদিন ধরে তা চলছে।অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাভূমি বুজিয়ে আবসন নির্মাণ, মাত্রাতিরিক্ত বৃক্ষচ্ছেদন সংকটকে বাড়িয়ে তুলেছে। উন্নয়নের নিয়ন্ত্রণহীণ কর্মযজ্ঞ জলস্তরে সংকট ঘটাবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নয়। ফসল ফলাতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন। কিন্তু পরিকল্পনা না থাকায় জলের অপচয়ও হয় বেশি। তাই অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় আগামী দিনে খাদ্য সংকটের যে ইঙ্গিত তাতে অতিরঞ্জিত কিছু নেই। জল  সংরক্ষণ সম্পর্কে  প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও  সরকারি উদ্যোগ। কিন্তু  এদেশে দুয়ের অভাব  অত্যন্ত প্রকট। পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে আন্দোলন করেছেন, কিন্তু  পরিস্থিতি যে তিমিরে,সেই তিমিরেই। তাই সার্বিক প্রচেষ্টা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান অসম্ভব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!