- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের মাঝেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতে রণক্ষেত্র গিরিশ পার্ক। শশী পাঁজার বাড়িতে ইটবৃষ্টি, জখম বৌবাজার থানার ওসি
কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্রিগেডের মঞ্চে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ঠিক আগে, বিজেপি-তৃণমূল সংঘাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গিরিশ পার্ক এলাকা। রাজ্যের মন্ত্রী শশি পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির অভিযোগ ওঠে গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের উপর। দু-দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ক্রমেই বিধ্বংসী চেহারা নেয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। আহত হয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপির একাধিক নেতাকর্মীও।
তৃণমূলের দাবি, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মীদের একটি অংশ গিরিশ পার্ক দিয়ে যাওয়ার সময় মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। সে সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন শশী পাঁজা। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ। তৃণমূল সূত্রের দাবি, হামলার সময় মন্ত্রী সামান্য আহতও হয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত কী ভাবে? তৃণমূলের দাবি, গিরিশ পার্কে মন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা পোস্টার লাগানো ছিল। ব্রিগেডের দিকে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীদের একটি দল বাস থেকে নেমে এসে ওই পোস্টার ছিঁড়ে দেয়। পরে তৃণমূল কর্মীরা ফের পোস্টার লাগাতে গেলে বচসা শুরু হয়। বচসা দ্রুতই ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষে গড়ায়। অভিযোগ, তখনই মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়, জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, ‘বিজেপির গুণ্ডারা বাস থেকে নেমে আমার বাড়ির সামনে হামলা চালিয়েছে। জানলার কাচ ভেঙে দিয়েছে। আজ যে বাসগুলি ব্রিগেডে যাচ্ছে, সেগুলিতে ইট, কাচের বোতল এমনকি বোমাও রয়েছে। বহিরাগত গুণ্ডাদের নিয়ে তারা ব্রিগেডে যাচ্ছে।’ মন্ত্রীর আরও দাবি, হামলার সময় তাঁর দুই কর্মীকেও মারধর করা হয় এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এরা গণতন্ত্রকে শেষ করতে চাইছে। যদিও এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের পাল্টা দাবি, গিরিশ পার্ক ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ মোড়ে আগে থেকেই জড়ো হয়ে থাকা তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে বিজেপির শান্তিপূর্ণ মিছিল লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। হামলায় আহত হন বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। বিজেপির আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও শুরুতে তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল।
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুতই চরমে পৌঁছয়। ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়িতে রাস্তায় ভাঙচুর হয় কয়েকটি গাড়ি। ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়িতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। তাঁর কাঁধে চোট লাগে বলে জানা গিয়েছে। সংঘর্ষের জেরে কিছু সময়ের জন্য চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ-সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
উল্লেখ্য, শনিবারই কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ সভাকে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে বিজেপি কর্মীরা শহরে আসছিলেন। তার মধ্যেই গিরিশ পার্কের এই সংঘর্ষ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
❤ Support Us





