- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার রাজ্যপালের ‘দুর্গাভারত’ পুরস্কার ঘোষণা পুজোয়
দূর্গা পুজো নিয়েও এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এ বার রাজভবন ঘোষণা করল, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও দুর্গাপুজো উপলক্ষে সম্মান জানাবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতীদের। দেওয়া হবে ‘দুর্গাভারত সম্মান’। বুধবার রাজভবনের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে এই সম্মান প্রদানের কথা জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের ‘বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান’ দেয়। রাজ্য সরকার পুজো শেষে ‘দুর্গাপুজো কার্নিভাল’-করে রেড রোডে।
তবে বাংলার রাজ্যপালের এই ‘দুর্গাভারত’ সম্মান শুধুমাত্র বঙ্গবাসীর জন্য নয়। যে কোনও রাজ্যের কৃতীরাই এই সম্মানের জন্য আবেদন করতে পারেন। গোটা দেশ থেকে এ জন্য মনোনয়নপত্র আহ্বান করেছে রাজভবন। শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান থেকে শুরু করে গবেষণা, তথ্য-প্রযুক্তি, সমাজসেবা, বাণিজ্য, চিকিৎসা— যে কোনও ধরনের শিল্প এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের কৃতীরাও এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পারেন। রাজভবনের এই ঘোষণার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ের পর এ বার পুজো নিয়েও রাজ্যের সঙ্গে ‘লড়াই’ -এ নামতে চলেছে রাজভবন?
রাজভবনের তরফে যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে পুরস্কারের কথা বিশদে জানানোর পাশাপাশি একটি ইমেল আইডি দেওয়া হয়েছে আবেদীন করার জন্য। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আবেদন করতে হবে মনোনয়নের জন্য। ই-মেল্ আইডি হল–DurgaBharatAwards@gmail.
‘দুর্গাভারত সম্মান’- পুরস্কার প্রাপকদের দেওয়া হবে
১। দুর্গাভারত পরম সম্মান: এক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
২। দুর্গাভারত সম্মান: পুরস্কার প্রাপক ৫০ হাজার টাকা পাবেন।
৩। দুর্গাভারত পুরস্কার: ২৫ হাজার টাকা পাবেন মনোনীত পুরস্কার প্রাপক।
কোন কোন ক্ষেত্রে সম্মান পাবেন কৃতীরা? রাজভবনের তরফে তার একটি দীর্ঘ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন শাখার ১১টি ক্ষেত্র ছাড়াও রাখা হয়েছে ‘অন্যান্য’ নামে একটি অংশে। এখানেই এই ১১টি ক্ষেত্রের বাইরের কৃতীরাও মনোনীত হতে পারেন। এই তালিকার ১১টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে,
১। শিল্পকলা: গান, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য, আলোকচিত্র, সিনেমা, থিয়েটার, লোক শিল্প, আদিবাসী শিল্প বা যে কোনও শিল্প।
২। সমাজ কল্যাণমূলক কাজ: সমাজসেবা, দান-ধ্যান, কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য তৈরি কোনও প্রকল্প ইত্যাদি।
৩। পাবলিক অ্যাফেয়ার্স: আইন, জনজীবন সংক্রান্ত বিষয়।
৪। বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং: পরমাণু বিজ্ঞান, মহাকাশ প্রকৌশল ইত্যাদি।
৫। তথ্য প্রযুক্তি, বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা
৬। বাণিজ্য এবং শিল্প: ব্যাঙ্ক, অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট, পর্যটনের প্রচার, ব্যবসা।
৭। চিকিৎসা: আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, অ্যালোপ্যাথি, নেচারোপ্যাথি, সিদ্ধা ইত্যাদি বিভিন্ন চিকিৎসার মাধ্যমে গবেষণা এবং বিশেষ কৃতিত্ব।
৮। সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, প্রকাশনা।
৯। সাহিত্য, কবিতা, শিক্ষার প্রচার, সাক্ষরতার প্রচার।
১০। প্রশাসনিক কাজে কৃতীরা
১১। খেলাধূলা
এ ছাড়াও থাকছে ‘অন্যান্য’। সেখানে বলা হয়েছে, উপরোক্ত সবক’টি বিভাগের বাইরে থেকেও যাঁরা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচারে ভাল কাজ করেছেন, মানবাধিকার রক্ষা, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে ভাল কাজ করেছেন, তাঁরাও মনোনীত হতে পারেন এই সম্মানের জন্য। চলতি মাসের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই সমস্ত বিভাগে মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে উল্লিখিত ইমেল আইডিতে।
❤ Support Us





