Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

৮ম বেতন কমিশন কার্যকর হবে কবে, কারা পাবেন সুবিধা ? সংসদে জানাল কেন্দ্র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৮ম বেতন কমিশন কার্যকর হবে কবে, কারা পাবেন সুবিধা ? সংসদে জানাল কেন্দ্র

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা ও উত্তেজনা কয়েক মাস ধরে তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কাছে এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, আগামী দিনের আর্থিক স্বস্তিরও প্রশ্ন। শীতকালীন অধিবেশনে অবশেষে এই বহুল আলোচিত বেতন কমিশন নিয়ে বিস্তারিত জানাল নরেন্দ্র মোদি সরকার। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লোকসভায় লিখিত জবাবে জানালেন, ৮ম পে কমিশন ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে এবং এর দায়িত্বের পরিধি বা ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ গত ৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সে দিন থেকেই কমিশনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, ৫০.১৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী এই কমিশনের আওতায় আসবেন। অর্থাৎ প্রায় এক কোটি দশ লক্ষ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের শিল্প ও অ-শিল্প উভয় ক্ষেত্রের কর্মচারী থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় পরিষেবার সদস্য, প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কর্মচারী, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্ট এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের হাইকোর্ট এবং অধস্তন আদালতের কর্মচারীরাও এই কমিশনের সুবিধাভোগী তালিকায় রয়েছেন।

৮ম পে কমিশনের রিপোর্ট কবে হাতে মিলবে, সেটিও কর্মচারী মহলে বড়ো প্রশ্ন। নিয়ম অনুযায়ী, কমিশন গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে হয়। সে হিসেবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে কমিশনের রিপোর্ট পেশ হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, কখন থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাস্তবায়নের দিন-তারিখ সম্পূর্ণই সরকারের সিদ্ধান্তাধীন। এই মুহূর্তে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে সরকারের অভ্যন্তরীণ মহল এবং অতীতের অভিজ্ঞতা কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। পূর্ববর্তী বেতন কমিশনগুলির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সুপারিশ পরে এলেও বেতন কাঠামো সাধারণত ১ জানুয়ারির তারিখ থেকেই কার্যকর ধরা হয় এবং পরে কর্মচারীরা বকেয়া সহ সংশোধিত বেতন পান। সপ্তম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনই হয়েছিল। সেই ধারা ধরে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, ৮ম বেতন কমিশনের প্রভাবও ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই গণ্য হতে পারে। যদিও সরকার এ নিয়ে এখনই মুখ খোলেনি।

বেতন কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সামগ্রিক বেতন বৃদ্ধি ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। ন্যূনতম বেসিক পে ৩৪,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪১,০০০ টাকার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই কমিশনের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে। নতুন বেতন কাঠামো প্রযোজ্য হলে পুরনো ডিএ সাধারণত শূন্যে ফিরে যায়, কারণ তা নতুন বেসিকের সঙ্গে মিশে যায়। যদিও কেন্দ্র এ দিন স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিএকে স্থায়ীভাবে বেসিকের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো প্রস্তাব সরকারের কাছে নেই। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ডিএ আগের নিয়মে চলবে এবং জানুয়ারি ও জুলাই— দুই কিস্তিতে মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে সংশোধিত হবে।

তবে, পূর্ববর্তী বেতন কমিশনগুলির দিকে তাকালে দেখা যায়, তা কার্যকর হতে কখনো খুব কম সময় লেগেছে, কখনো আবার কয়েক বছর। সপ্তম পে কমিশন তুলনামূলকভাবে দ্রুত কার্যকর করা হয়েছিল। কিন্তু পঞ্চম ও ষষ্ঠ কমিশনের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে দেরি হয়েছিল বেশ কিছুটা। সে কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এবারও একটা সংশয় রয়েছে, কবে হাতে মিলবে নতুন বেতনস্লিপ। তবে এবার যেহেতু টিওআর দ্রুত জারি করা হয়েছে, প্রশাসনিক মহল মনে করছে, কাজ এগোতে ততটা দেরি হওয়ার কথা নয়। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ৮ম পে কমিশনের ঘোষণা বিশাল স্বস্তির খবর হলেও, বাস্তবায়নের তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। কমিশনের কাজ এগোচ্ছে, রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ও জানা, এখন অপেক্ষা কেবল সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। তত দিন পর্যন্ত ডিএ-র নিয়মিত বৃদ্ধি এবং পুরনো কাঠামোই ভরসা। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বেসিক, ভাতা, পেনশন— সবকিছুই পাল্টে যাবে। কিন্তু সে পরিবর্তনের স্বাদ পেতে কর্মচারীদের আরও কিছুটা ধৈর্য ধরতেই হবে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!