Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ৩, ২০২৩

ত্রিপুরা, মেঘালয়ে না-ভোট বেড়েছে , নাগাল্যাণ্ডে নোটার বিপরীত চিত্র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ত্রিপুরা, মেঘালয়ে না-ভোট বেড়েছে , নাগাল্যাণ্ডে নোটার বিপরীত চিত্র

ভারতের সাধারণ নির্বাচনে ব্যবস্থায় নোটার বয়স খুব বেশি নয়। মাত্র আট বছর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের না বলবার অধিকার তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে, ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট বৈদ্যুতিন ভোটিং মেশিনে পছন্দের দলগুলোর মধ্যে নোটা অর্থাৎ নন অফ দ্য আবভকে রাখার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয় কমিশন। ২০১৪ সাধারণ নির্বাচনে অন্তর্ভূক্ত হয় নোটা। ১.১ শতাংশ ভোট যায় নোটার ঝুলিতে।

এরপর থেকে একের পর এক নির্বাচন এসেছে। নোটার ঝুলিতে ভোট শতাংশ কখনো বেড়েছে আবার কখনো কমেছে। কখনো ভোটের রেজাল্টে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছে নোটা। অনেক সময় দেখা গেছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নোটার কাছে পরাস্ত হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত উত্তর-পূর্বের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা এরকম এক খণ্ড চিত্র ।যেখানে ত্রিপুরা প্রথম নির্বাচনে লড়া ‘জাতীয়’ দল তৃণমূল নোটার কাছে পরাস্ত হয়েছে। নোটার ঝুলিতে যেখানে গেছে ১.৩৬ শতাংশ ভোট, সেখানে সর্বভারতীয় তৃণমূল মাত্র ০.৮৮ শতাংশ। শুধু মাত্র ঘাস ফুল শিবির নয়, ভোট শতাংশের নিরিখে বাম শিবিরে থাকা সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি ও বিজেপির অঙ্গসঙ্গী আইপিএফটিও নোটার কাছে পর্যুদস্ত। ত্রিপুরায় প্রতিটি দল পরীক্ষিত । কংগ্রেস , বাম, আইপিএফটি,বিজেপি কেউই বাদ যায় না। তাই কি প্রধান দলগুলোর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন সাধারণ নির্বাচকদের একটি অংশ। তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব বার বার বিভিন্ন জনসভা থেকে ত্রিপুরায় প্রচার চালিয়েছেন। খরচ হয়েছে কয়েক কোটি তা সত্ত্বেও নোটার পিছনে তাঁরা। কারণ রুপে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলার দুর্নীতির খবর এখন আর শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নেই। ত্রিপুরাতেও শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে বিজেপি সরকারের যুক্ত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই অন্য কোনো রাজ্যের দুর্নীতির দায়ে আপাদমস্তক অভিযুক্ত দলকে শাসনভার চালানোর দায়িত্ব দিতে আগ্রহী হননি ত্রিপুরাবাসী। তাই খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তৃণমূলকে।

নোটার বৃদ্ধি যেমন আছে। তেমনই আছে অত্যন্ত কম শতাংশ ভোট পাওয়ার নজির। সাধারণত কোনো নির্বাচনে নাগরিক যদি নির্ণায়ক ও সুস্থির সরকার চান তাহলে কোনো না কোনো দলের পক্ষে সুনির্দিষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন। নাগাল্যাণ্ডেও ব্যতিক্রম হল না। ৬০ আসনের বিধানসভায় নোটার ভাগ্যে জুটেছে ০.৩১ শতাংশ ভোট। নাগাল্যাণ্ডে বিজেপি জোট সরকার গঠন করবে ভোটের আগে থেকেই তা ছিল কার্যত নিশ্চিত। সংবাদ মাধ্যমেও ছিল গেরুয়া শিবিরের পক্ষে প্রচার। তাই নোটার প্রাপ্ত ভোট শতাংশে প্রচারের হাওয়ায় গা ভাসানোর প্রবণতা স্পষ্ট। সুস্থির সরকার গঠনের পক্ষে সাধারণ ভোটার দের স্পষ্ট অবস্থান।

দুই রাজ্যের মধ্যে মেঘালয়ে নোটার পরিস্থিতি তুলনায় ভালো। ০.৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে নোটা। রাজধানী শিলং এও নোটার ভোট ১ শতাংশের বেশি। শতাংশের বিচারে দেখলে  যুবসমাজের একটি অংশ আস্থা হারাচ্ছে মূল ধারার দলগুলোর প্রতি। সে কারণেই দেখা যাচ্ছে প্রধান  রাজনৈতিক দল গুলোকেও  কোনো কোনো জায়গায় টেক্কা  দিচ্ছে না ভোট।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!