Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

ছ-বার ব্যর্থতার পর ‘নটি বয়’-এর জয় ! জিএসএলভি-র সফল উৎক্ষেপণে নতুন মাইলফলক ইসরোর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছ-বার ব্যর্থতার পর ‘নটি বয়’-এর জয় ! জিএসএলভি-র সফল উৎক্ষেপণে নতুন মাইলফলক ইসরোর

ছ-বার ব্যর্থতার কারণে একসময় নাম হয়ে গিয়েছিল ‘নটি বয়’ বা ‘দুষ্ট ছেলে’। সেই ব্যর্থতার অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে সাফল্যের নতুন নজির গড়ল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। শুক্রবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ হল জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ইওএস-০৫ উপগ্রহকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। ইসরোর এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গর্ব প্রকাশ করেছেন ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনও।

শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি-এফ১৭। এটি জিএসএলভি সিরিজের ১৯তম উড়ান। উৎক্ষেপণের পর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী উপগ্রহটিকে নির্ধারিত উপ-ভূস্থির কক্ষপথে স্থাপন করে রকেটটি। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে ইওএস-০৫-কে নির্দিষ্ট অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। মিশনের সাফল্যের পর ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে জিএসএলভি-এফ১৭ সফল এবং নিখুঁত ভাবে উন্নত পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ-০৫ বা ইওএস-০৫-কে নির্ধারিত ও প্রয়োজনীয় কক্ষপথে স্থাপন করেছে। তাঁর দাবি, কক্ষপথে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে।

জিএসএলভি-এফ১৭/ইওএস-০৫ মিশনের সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইসরোর বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং গোটা দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি এই সাফল্যকে ভারতের মহাকাশ গবেষণায় উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের মহাকাশ কর্মসূচি যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, এই মিশনের সাফল্য তারই আরও একটি প্রমাণ। ইওএস-০৫ একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, এটি ভারতের প্রথম এমন চিত্রগ্রহণ উপগ্রহ, যা ভূসমলয় কক্ষপথ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ভূসমলয় কক্ষপথে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে ইওএস-০৫ পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর নজর রাখতে পারবে। ফলে সাধারণ নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের তুলনায় কোনও নির্দিষ্ট এলাকার উপর আরও ধারাবাহিক ভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব হবে।

এ ধরনের উপগ্রহের মাধ্যমে নিয়মিত ছবি এবং পৃথিবী পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এর ফলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও নজরদারি, কৃষি, পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা এবং বিভিন্ন কৌশলগত প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখার ক্ষেত্রে ভূসমলয় চিত্রগ্রহণ উপগ্রহের সুবিধা উল্লেখযোগ্য। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল আবহাওয়া পরিবর্তন কিংবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত তথ্য পাওয়া গেলে আগাম সতর্কতা জারি করা এবং পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

জিএসএলভি-এফ১৭-এর এই সফল উৎক্ষেপণ তাই শুধু একটি রকেট উৎক্ষেপণের সাফল্য নয়; ভারতের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একসময় ব্যর্থতার জন্য ‘নটি বয়’ নামে পরিচিত জিএসএলভি-র এই সাফল্য ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারই নতুন প্রমাণ হয়ে উঠল।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!