Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

ভারী বৃষ্টিতে ফরাক্কায় রেললাইনে ধস ! বাতিল বন্দে ভারত-সহ একাধিক উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারী বৃষ্টিতে ফরাক্কায় রেললাইনে ধস ! বাতিল বন্দে ভারত-সহ একাধিক উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন, দুর্ভোগে যাত্রীরা

বৃষ্টির দাপট থামেনি। তার মধ্যেই মেরামতির কাজ চলছিল। কিন্তু বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না। নিউ ফরাক্কার কাছে ফের রেললাইনের পাশে মাটি সরে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে রেল কর্তৃপক্ষের। বুধবার গভীর রাতে আপ লাইনের নীচে মাটি বসে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিনভর মেরামতির কাজ চললেও শুক্রবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলো না। ফলে উত্তরবঙ্গমুখী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল হয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারতও।

নিউ ফরাক্কা জংশন স্টেশনে ঢোকার আগে কেবিন সংলগ্ন এলাকায় বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ বিপত্তিটি প্রথম নজরে আসে। রেললাইন নজরদারির দায়িত্বে থাকা গ্যাংম্যানরা দেখতে পান, আপ লাইনের নীচের মাটি কয়েক ফুট বসে গিয়েছে। নিউ ফরাক্কা স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বারহাড়োয়ার দিকে প্রায় ২০ মিটার এলাকা জুড়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকেরা। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাতেই শুরু হয় মেরামতির কাজ। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাথরকুচি ও গুঁড়ো পাথর ফেলে মাটি শক্ত করার কাজ শুরু হয়। এ জন্য ঝাড়খণ্ড থেকে পাথর বোঝাই মালগাড়িও আনা হয়। ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৫০ জন শ্রমিককে কাজে নামানো হয়। রেলের দাবি, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চলছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে সমস্যা দেখা দেয়। রেললাইনের পাশের একটি পুকুরের পাড়ে মাটি সরে যায়। তার অভিঘাতে লাইনের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিও এক দিকে হেলে পড়ে। ফলে মেরামতির কাজ কিছুটা থমকে যায়। রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নতুন করে ধস নামেনি। তবে মেরামতির সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় কাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) শিবরাম মাঝি বলেন, ‘‘ধস মেরামত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই সময় দেখা যাচ্ছে, তা আরও বেড়েই চলেছে। ধস আপাতত থামানো গিয়েছে। বাকি যে কাজগুলি রয়েছে, সেগুলিও করা হচ্ছে। নতুন করে কোনও বিপত্তি না হলে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে মেরামতির কাজ শেষ করা সম্ভব বলে আশা করছি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শনিবার থেকেই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছি।’’ তবে রেলের এই আশ্বাসের মধ্যেও শুক্রবার বাতিল হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ এই পথে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগও বেড়েছে।

শুক্রবার বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে :

  • হাওড়া–গুয়াহাটি সরাইঘাট এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–বামনহাট উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–আলিপুরদুয়ার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–সহরসা হাটেবাজারে এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–মালদহ টাউন গৌড় এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–নিউ আলিপুরদুয়ার দার্জিলিং মেল
  • শিয়ালদহ–বালুরঘাট এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–নিউ আলিপুরদুয়ার পদাতিক এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–জলপাইগুড়ি রোড হামসফর এক্সপ্রেস
  • কলকাতা–রাধিকাপুর এক্সপ্রেস
  • কলকাতা–যোগবনী এক্সপ্রেস
  • হাওড়া–ডিব্রুগড় কামরূপ এক্সপ্রেস
  • হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস
  • হাওড়া–কাটিহার এক্সপ্রেস
  • হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেস
  • কলকাতা–বালুরঘাট তেভাগা এক্সপ্রেস
  • হাওড়া–মালদহ টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস
  • শিয়ালদহ–নিউ আলিপুরদুয়ার তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস
  • মালদহ টাউন–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেন

শুধু বাতিল নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও বদলানো হয়েছে। আপ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসকে বিকল্প পথে ব্যান্ডেল-কাটোয়া-আজিমগঞ্জ হয়ে নিউ ফরাক্কা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে দিঘা-মালদহ টাউন এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করে রামপুরহাট পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারও পরিস্থিতির জেরে বাতিল হয়েছিল একাধিক ট্রেন। শিয়ালদহ-সবরুম কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-হলদিবাড়ি দার্জিলিং মেল, শিয়ালদহ-মালদহ টাউন গৌড় এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি পদাতিক এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-আলিপুরদুয়ার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-বালুরঘাট এক্সপ্রেস এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সাহেবগঞ্জ-মালদহ টাউন মেমুও চালানো হয়নি।

নিউ ফরাক্কা জংশনের গুরুত্ব কম নয়। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের পাশাপাশি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের একাংশের সঙ্গেও রেলপথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এই জংশন। ফলে এই পথে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে বহু দূরপাল্লার ট্রেনে। রেল সূত্রে খবর, আপ লাইন পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে স্বাভাবিক ভাবে ট্রেন চালানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না রেল। ফলে সপ্তাহান্তে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রী এবং পর্যটকদের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেলপথে অনিশ্চয়তার কারণে বিকল্প হিসেবে বাসের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। সরকারি বাসে টিকিট না পেয়ে বেসরকারি বাসের দ্বারস্থ হচ্ছেন যাত্রীরা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু বেসরকারি বাস সংস্থা রাতারাতি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!