Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

চলতি বছরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির লক্ষ্য, দিল্লিতে ‘ইউসিসি কমিটি’র বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চলতি বছরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির লক্ষ্য, দিল্লিতে ‘ইউসিসি কমিটি’র বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

রাজ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ‘ইউসিসি’ কার্যকর করার পথে আরও একধাপ এগোল বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার দিল্লির চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনে রাজ্য সরকারের গঠিত ‘ইউসিসি কমিটি’-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই রাজ্যের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

বিজেপি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে রাজ্যে ‘ইউসিসি’ কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘোষণা করেছিলেন, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড ও অসমের পর পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াতেই এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে কলকাতায় নিজেদের দফতর চালু করবে ‘ইউসিসি’-র জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি। এরপর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত সংগ্রহ করা হবে। সাধারণ মানুষের মতামত জানার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নয়, অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে কীভাবে ‘ইউসিসি’ কার্যকর করা হচ্ছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। গুজরাট, উত্তরাখণ্ড ও অসম-সহ যে রাজ্যগুলিতে ‘ইউসিসি’ নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানকার নথি ও রূপরেখা পর্যালোচনা করা হবে। সেই অভিজ্ঞতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখেই রাজ্যের উপযোগী ‘অভিন্ন দেওয়ান বিধি’-র খসড়া তৈরি করা হবে। কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল পেশ করা হবে। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও রাজ্যের আধিকারিকরা আলোচনা করবেন বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে খুব শীঘ্রই রাজ্যে ‘ইউসিসি বিল’ আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের গঠিত ‘ইউসিসি কমিটি’-তে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, আইএএস ও রেসিডেন্ট কমিশনার দ্যুষ্মন্ত নারিয়ালা, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সংঘমিত্রা ঘোষ, বঙ্গবাসী কলেজের নৃতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ড. রত্না ভট্টাচার্য, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহ-উপাচার্য গোপালচাঁদ মিশ্র, কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বেঙ্গল সম্ভাগের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাল্য ভট্টাচার্য।
বিধি কার্যকরের আগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অন্তত ন-টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে তাঁদের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি বণ্টন-সহ একাধিক দেওয়ানি বিষয়ে মতামত সংগ্রহ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, রাজ্যে ‘ইউসিসি’ কার্যকর হলে ফৌজদারি আইনের মতো দেওয়ানি আইনও সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য সমান হবে এবং এর ফলে শরিয়ৎ আইনের পরিবর্তে অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর হবে। তবে জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছিলেন। এখন বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বক্তব্য এবং অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিধির খসড়া তৈরির কাজ শুরু হতে চলেছে। চলতি বছরের মধ্যেই সে খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য সামনে রেখেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!