- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৮, ২০২৫
জিএসটি সংশোধনে, আলোর উৎসবে বাজার চাঙ্গা দেশের, বৈদ্যুতিন পণ্যের চাহিদায় নয়া লক্ষ্যপূরণ। আশার বাণী নির্মলা-অশ্বিনী কন্ঠে । বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতার মধ্যেও গতিশীল ভারত, মন্তব্য কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রীর
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা কমেছে প্রায় ১১.৯৩ শতাংশ । অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে ১১.৭৮ শতাংশ
কেন্দ্রের জিএসটি সংশোধন নীতিতে বাড়ছে দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা, চাঙ্গা হচ্ছে বাজার । জিএসটি বাচত উৎসব সম্মেলন থেকে এই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ও ইলেক্ট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব । ২২ সেপ্টেম্বর থেকে, দেশে ৫৪টি পণ্যের করের হার পরিবর্তন হয়েছে, এতে কমছে দ্রব্যমূল্য । যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে, বেড়েছে বিক্রি । পরিবর্তিত জিএসটি হারেই যাতে বাজারে পণ্য বিক্রি হয়, সে বিষয়টিতেও লক্ষ্য রেখেছে সংশ্লিষ্ট দফতর । দাবি সীতারমনের । অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী দাবি করেছেন, ৫ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে জিএসটি সীমাবদ্ধ থাকায়, বেড়েছে বাজারের চাহিদা । বিশেষত বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্যের বিক্রি বেড়েছে । জিএসটি সংশোধনের ফলে শুধু বৈদ্যুতিন ক্ষেত্রেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে চলতি মাসে । কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ভোগ্যপণ্য বিক্রি বৃদ্ধি মানেই, শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ছে । এইক্ষেত্রে বার্ষিক বৃদ্ধির হার নাকি ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশ অতিক্রম করেছে । তাঁর দাবি এই বৃদ্ধির হার অব্যহত থাকলে, গত অর্থ বছরে তুলনায় ২০ লক্ষ কোটির বেশি চাহিদা তৈরি হবে বাজারে, যার সদর্থক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে ।
অন্যদিকে জিএসটির হার পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন পণ্যের পুরনো দামই উপভোক্তাদের কাছে থেকে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে । এবিষয়ে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতরে গত কেয়ক দিনে তিন হাজারেরও বেশি অভিযোগ নথিভূক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী । এবিষয়ে ইতিমধ্যেই শুল্ক দফতরকে এবিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, নিয়োগ করা হয়েছে নোডাল অফিসারও । ৯৪টি ক্ষেত্রে উপভোক্তারা তাদের টাকাও ফেরত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সীতারমন ।
এইধরনের অভিযোগের দ্রুত সমাধান করতে আঞ্চলিক দফতর গুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দাবি করেছেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি অভাবনীয় স্থিতিশীলতা এবং গতি দেখাচ্ছে । সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, দেশের কৃষক, মৎসজীবি এবং মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করেই, মার্কিন আরোপিত শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতার সমঝোতায় যাবে কেন্দ্র । দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি কখনোই ভারতের স্বার্থ ক্ষুন্ন করে হবে না । তিনি বলেছেন, যেকোনো বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে দেশের কৃষক, মৎসজীবি এবং মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের প্রতিনিধি রাজেশ আগরওয়াল । ভারত থেকে কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে অনুরোধও এসেছে দিল্লির কাছে । এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ওই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্য পূর্ণ । ইতিমধ্যেই বিরেধী শিবির থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ট্রাম্পের ভয়েই তাদের সমস্ত শর্ত একতরফা ভাবে মেনে নিচ্ছে মোদির সরকার । চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের । অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যেই চুক্তির প্রথম পর্যায়ের খসড়া ছূড়ান্ত হওয়ার কথা ।
ইতিমধ্যে দুই দেশ এনিয়ে পাঁচবার আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হয়েছে । গত সেপ্টেম্বরেই কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী সহ ভারতীয় প্রতিনিধি দল নিউইয়র্ক সফরে গিয়েছিলেন চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতা সূত্র খুঁজতে । ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়েছে দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্কে । রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের হুমকিতে বিরক্ত ভারত । ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে অন্যায় এবং অযৌক্তিক বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়াদিল্লি । যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মার্কিন পেসিডেন্টের সাম্প্রতিক টেলিফোনিক কথপোকথন, বাণিজ্য সমস্যায় সমঝোতার পথ তৈরি করবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল ।
২০৩০ সালের মধ্যে, দু-দেশের মধ্যে বাণিজ্যের লক্ষমাত্রা ১৯১ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িযে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে । বারকয়েক ভারত এবং মার্কিন প্রতিনিধি এনিয়ে আলোচনা করেছেন । ভারত গত অর্থবর্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে । অর্থমূল্যে ভারতের রফতানি ক্ষেত্রের ১৮ শতাংশ আয় হয় মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র থেকে । বিশ্ববাজার থেকে আমদানি ক্ষেত্রে প্রায় ৬.২২ শতাংশ পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা কমেছে প্রায় ১১.৯৩ শতাংশ । অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে ১১.৭৮ শতাংশ । এবিষয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রীর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে বই কমবে না । তাঁর সংযোজন, গত দুই ত্রৈমাসিকে পরিষেবা এবং পণ্য রফতানিতে ভারতের বৃদ্ধি ইতিবাচক । গত অর্থবর্ষের তুলনায় এপর্যন্ত, প্রায় ৫ শতাংশ বেশি পণ্য রফতানি করেছে ভারত । তিনি দাবি করেছে জিএসটি কর নীতি সংশোধনের পর থেকেই ভারতীয় পণ্যের চাহিদা অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বে বেড়েছে । গতি পেয়েছে ভারতীয় উৎপাদন ক্ষেত্র । ফলে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে ।
❤ Support Us







