- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৪, ২০২৫
অসুধের আড়ালে গুজরাটে মাদক ব্যবসার রমরমা। এটিএসের হাতে বাবার আস্ত মাদক কারখানা।
গুজরাটে মাদক ব্যবসা নির্মূল করতে পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড বা এটিএস বারবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধার করেছে। এবার আনন্দ জেলার কামভাত থেকে উদ্ধার হলো ৫ কোটি মুল্যের ড্রাগ। ওষুধ কারখানার আড়ালে চলতো মাদক তৈরির কাজ। ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গুজরাট কী মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে? বিগত ২ বছরে গুজরাট পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা বা এটিএস বারবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধার করেছে। শুক্রবার গুজরাটের আনন্দ জেলার কামভাতের ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানা থেকে উদ্ধার হলো ৫ কোটি মুল্যের মাদকের কাঁচামাল। ওষুধ কারখানার আড়ালে চলতো মাদক তৈরির কাজ।
গুজরাট এটিএসের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সুনীল জোশি নিশ্চিত করেছেন যে, আনন্দ জেলার খাম্বাতে একটি মাদক তৈরির কারখানায় এটিএস-এর অভিযানে কোটি টাকার মাদকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” পুলিশ এখনো এই অভিযানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেন নি। গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি সাংবাদিকদের বলেছেন, “এটিএস ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ১০৭ কেজিরও বেশি আল্ট্রা জোলাম পাউডার বাজেয়াপ্ত করেছে যা ঘুমের ট্যাবলেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।”
অক্টোবর ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে, গুজরাটে ১৬,১৫৫ কোটি টাকার ৮৭,৬০৭ কেজি ড্রাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মাদক বাজেয়াপ্ততে গুজরাট ভারতের প্রথম রাজ্য হয়ে উঠেছে। জানুয়ারি মাসে আমেদাবাদের লালদরজা এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে ২৭ লক্ষ টাকার মাদক উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তদন্দে নেমে লালদরজা এলাকা থেকে ফারহান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৫৫ গ্রাম ঔষধি ড্রাগ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, অভিযুক্ত যুবক কোথা থেকে সে মাদক সংগ্রহ করত সে খবর জানায়। এর আগে সে চরসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ধরা পরে জেলও খেটেছে সে, মুক্তি পেয়ে আবার মাদকের ব্যবসায় যুক্ত হয় ফারহান। পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে মাদকের পাচার হচ্ছে, এই সন্দেহে নড়েচড়ে বসে দুর্নীতি দমন শাখার কর্তারা। রাজ্যজুড়ে অবৈধ ব্যবসার বিশাল জাল ছড়ানো আছে ধারণা করা হয়েছিল। ড্রাগ মাফিয়াদের আটকাতে প্রবল অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
গত ২১ অক্টোবর গুজরাতের ভরুচ জেলার অঙ্কলেশ্বরের একটি ওষুধের কারখানা থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৪০০ কেজি মাদক, যার বাজারমূল্য অন্তত ১৪ লক্ষ টাকা। কারখানায় মাদক মজুত থাকার খবর পেয়ে জেলা এসওজি এবং সুরাট পুলিশ যৌথ ভাবে ওই অভিযানটি চালিয়েছিল।সে মাসেই অঙ্কলেশরের আর একটি কারখানা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ৫০০ কেজি কোকেন উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এই ঘটনার দিনকয়েক পরেই ভোপালের এক কারখানা থেকে ১৮১৪ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার হয়। এর পর অক্টোবরের ১১ তারিখ আর একটি পৃথক অভিযানে দিল্লির একটি বন্ধ দোকান থেকে ২০০০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করে দিল্লি পুলিশ। গত নভেম্বরে পাকিস্তানে অপারেটিভের কাছে কোস্ট গার্ডের জাহাজের গতিবিধি সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য পাঠানোর অভিযোগে একজন ব্যক্তিকে আটক করেছিল পুলিশ। অভিযুক্ত দীপেশ গোয়েল ,পাকিস্তানের এক এজেন্টের সাথে যোগাযোগ রাখতেন, দৈনিক ২০০ টাকা পাঠানো হতো তাঁকে। দীর্ঘ সময় ধরে দীপেশ সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। সাহিমার সম্পর্কে তদন্ত নেমে জানতে পারা যায় তিনি পাকিস্তানের নোউবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্ত গোয়েলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৬১ এবং ১৪৮ এর অধীনে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল দিল্লি বিধানসভায় গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে বলেছিলেন, গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর দিয়ে গোটে দেশে মাদক পাচার হচ্ছে এবং তারপরে বিজেপি-শাসিত রাজ্যের অসংখ্য কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। তারপর রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে যাচ্ছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছিলেন, নিখিল গান্ধীর মালিকানাধীন পিপাভাভ বন্দর থেকে, কখনও গৌতম আদানির মালিকানাধীন মুন্দ্রা বন্দর থেকে মাদক পাচার হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, মাদকের একটি বড় চোরাচালান ২০২১ সালের জুন মাসে হয়েছিল। যা ধরা যায় নি। প্রায় ২৫ টন ওজনের মাদকের দাম ছিল ১,৭৫,০০০ কোটি টাকা। ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেসব চলে গেছে। এটা কি সক্রিয় যোগসাজশ ছাড়া, সরকারের মদত ছাড়া ঘটতে পারে?
তবে মাদক উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদী গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্গভি। তাঁর মতে, একের পর এক মাদক উদ্ধারের ঘটনা বরং প্রমাণ করে যে, মাদক পাচার ও বিক্রি রুখতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
❤ Support Us






