Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ৯, ২০২৬

কালীঘাটে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিক্ষোভ! কালো পতাকা ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে ‘এসআইআর’-এর বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদীরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কালীঘাটে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিক্ষোভ! কালো পতাকা ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে ‘এসআইআর’-এর বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদীরা

রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত একই ছবি। পশ্চিমবঙ্গে এসে একের পর এক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমার। তিন দিনের সফরে রাজ্যে পৌঁছনোর পর থেকেই বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল এবং কালীঘাট মন্দির— বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই প্রতিবাদ বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।

রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছনোর পর বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই একদল বিক্ষোভকারী কালো পতাকা দেখিয়ে প্রতিবাদ জানায়। অভিযোগ, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাতিল করা হচ্ছে, এমন অভিযোগেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবাদীরা। বিমানবন্দর থেকে যখন কমিশনারের কনভয় নিউটাউনের হোটেলের দিকে রওনা দেয়, তখন রাস্তার দু-ধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ও তৃণমূল কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। ভিআইপি রোডে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গাড়িবহর পৌঁছতেই বিক্ষোভে সামিল হয় সিপিআইএম-এর যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীরা। কালো পতাকা হাতে তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে বাম যুব ও মহিলা কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। তবে সে বাধা সত্ত্বেও পিছিয়ে যাননি প্রতিবাদকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। নিউটাউনের হোটেলের সামনেও বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে।

সোমবার সকালেও একই পরিস্থিতি দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া কালীঘাট মন্দির এলাকায়। সকালেই সেখানে পুজো দিতে যান জ্ঞানেশ কুমার। তবে তার আগেই কালো পতাকা হাতে সেখানে জড়ো হয়ে যান একদল বিক্ষোভকারী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন তাঁরা। প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই হাসিমুখে মন্দিরে প্রবেশ করেন জ্ঞানেশ কুমার। পুজো সেরে বেরোনোর সময় সাংবাদিকরা বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সব ভাইবোনকে আমার নমস্কার। মা কালী সকলকে ভালো রাখুন।’

এ সফরে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সুখবির সিংহ সিন্ধু এবং ভিভেক যোশী। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকের সূচি রয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ম্যানেজ আগরওয়ালের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তাঁরা। কেন্দ্র ও রাজ্যের ২৪টি এনফোর্সমেন্ট সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান-সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়াও জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন কমিশনাররা। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত বুথ লেভেল অফিসারদের সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে কমিশনের ফুল বেঞ্চের কর্মসূচিতে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘এসআইআর’-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। বামপন্থী সংগঠনগুলির ডাকে ৪ ও ৫ মার্চ নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও কর্মসূচি হয়। প্রায় দেড় দিন ধরে কমিশনের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ‘এসআইআর’-এর নামে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, আগে ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে হবে, তার পর নির্বাচন। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে ম্যাপিং হয়ে যাওয়া ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একই ইস্যুতে ব্যাপকভাবে সরব। সুপ্রিম কোর্টে সুরাহা না মেলায়,  গত ৬ মার্চ থেকে ‘এসআইআর’-এর বিরোধিতায় ধর্মতলা এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ শীর্ষ নেতৃত্বরা। মঞ্চ থেকে লাগাদার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে বিতর্কের মীমাংসা হয়নি। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, এর মধ্যে বহু প্রকৃত ভোটার রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেই তিন দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সোমবার ও মঙ্গলবার দফায় দফায় প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক স্তরে বৈঠক করে রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন তিনি। সূত্রের ইঙ্গিত, ১০ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষ হওয়ার পর, রাজ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!