- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ২৮, ২০২৫
লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের সহযোগী বাংলাদেশে ! সীমান্ত ঘেঁষা সফরে ভারত-বিরোধী উস্কানি, কাশ্মীর দখলের হুমকি
ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতার ছক কষছে লস্কর? আর তাতে ইন্ধন যোগাচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার? পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই, দুই দেশের মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলি একজোটে আক্রমণ শানাতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে? একদিকে যখন পাকিস্থানের সেনাকর্মকর্তা, আমলা-মন্ত্রীরা বাংলাদেশের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরি করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে বিতর্কিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তখন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ‘বদলা’ নিতে জঙ্গি সংগঠনগুলি এবার পূর্ব সীমান্তে গড়ে তুলতে চাইছে নাশকতার ঘাঁটি?
পাকিস্তানের ‘মাকরেজি জামিয়াত আহলে-হাদীস’-এর সাধারণ সম্পাদক ইবতিসাম এলাহী জাহির, যিনি দীর্ঘ দু-দশক ধরে লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত, সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে উস্কানিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকে তিনি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর মতো সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে স্থানীয় মৌলবাদী সংগঠন এবং মসজিদের ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। চলতি বছরে এ নিয়ে ২ বার বাংলাদেশে জাহির। গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি বাংলাদেশে এক সপ্তাহের বেশি সময় ছিলেন।
এবার সরাসরি রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উস্কানিমূলক সভা ও বৈঠক করেছেন জাহির, উঠেছে এমনি অভিযোগ। রাজশাহীর পাবা উপজেলার ডাঙ্গীপাড়ায় ৬ ও ৭ নভেম্বর একটি বৃহৎ ‘সালাফি কনফারেন্স’-এ যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে প্রভাব বিস্তার এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সভায় জাহির বলেন, ‘ধর্মের জন্য নিজেদের এবং সন্তানদের আত্মত্যাগে প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত সমস্ত মুসলমানকে একত্রিত হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’ কাশ্মীর নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, কাশ্মীরিদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভারত কাশ্মীরে যে দমনমূলক আইন চলছে এবং ধর্ম বিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারকে আওয়াজ তুলতে হবে। এরপরই তিনি দাবি করেন, খুব শীঘ্রই কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হয়ে যাবে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, জাহিরের এই ঝটিকা সীমান্ত সফর এবং বিভিন্ন উস্কানিমূলক বৈঠক ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য বড়ো উদ্বেগের কারণ। তিনি লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এবং জামিয়াত আহলে-হাদীসের উচ্চপদে থাকায় তার পক্ষে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক চালানোর সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সময়ে এ ধরনের কার্যক্রম পুরনো মৌলবাদী নেটওয়ার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংলগ্ন সীমান্তে উগ্রবাদী প্রচার এবং সংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরির প্রচেষ্টা নতুন করে মাথা তুলছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জঙ্গিনেতার এ ধরনের সফর এবং সভা ভারতের অভ্যন্তরে বড়ো ধরনের অশান্তি সৃষ্টির ছক হতে পারে।
এদিন, জাহিরের বাংলাদেশে অবতরণের সময় তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের ‘জামিয়া আস-সালিফা’র সদস্য আবদুর রহিম বিন আবদুর রাজ্জাক। এই সংস্থা মূলত একটি ধর্মীয় গবেষণা কেন্দ্র, যা স্থানীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংযোগ রেখে নানান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুরের পরে পাকিস্তান, আইএসআই এবং বিভিন্ন মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারত-বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যেই জাহিরের কর্মকাণ্ডের ওপর সতর্ক নজর রাখছে এবং অদূর ভবিষ্যতে কোনো জঙ্গি হামলার ছক করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে জাহিরের উপস্থিতি এবং তার কর্মকাণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কতার সঙ্কেত দিচ্ছে।
❤ Support Us






