Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৪, ২০২৫

পৌরসভা নির্বাচনী দ্বন্দ্বে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিবৃষ্টি! দুষ্কৃতিদের হাতে নিহত প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ রামচরণ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পৌরসভা নির্বাচনী দ্বন্দ্বে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিবৃষ্টি! দুষ্কৃতিদের হাতে নিহত প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ রামচরণ

সোমবার সন্ধ্যায় হরিয়ানার গানৌর শহরের ভরা বাজার কেঁপে উঠল একের পর এক গুলির শব্দে। চারদিক তখন আতঙ্কিত মানুষের ছুটোছুটি, চিৎকার। উপ-বিভাগীয় হাসপাতালের সামনের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ক্রিকেট কোচ রামকরণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনেই গাড়ি চেপে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানান, গুলির আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় কোচের। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

জানা যাচ্ছে, ঘটনার দিন রামচরণ তাঁর পুরো পরিবারের সঙ্গে একটি বিয়েবাড়িতে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও পুত্রবধূ। গানৌরের সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের সামনে রাস্তা জনবহুল ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একটি গাড়িতে এসে রামচরণের গাড়ি থামিয়ে লক্ষ্যবস্তু করে একের পর এক গুলি চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত রামকরণ গণৌরের পরিচিত মুখ। একাধারে ক্রিকেটার, অন্যদিকে তরুণদের প্রশিক্ষক। তাঁর হাত ধরে বহু তরুণ ক্রিকেটার উঠে এসেছেন আলোকে। অবশ্য তিনি কেবল একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বই নন, বরং সোনিপত পুর পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যানও ছিলেন। বর্তমানে তাঁর পুত্রবধূ বর্তমানে গানৌরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সূত্রের দাবি, রামকরণ সম্প্রতি একাধিক স্থানীয় সভা ও ক্রীড়া উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যা প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর চোখে বালি হয়ে দাঁড়ায়।

হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে সুনীল ওরফে ‘লম্বু’-র নাম, যিনি একসময় ওই পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক পুর নির্বাচনে নিহত প্রাক্তন ক্রিকেটারের পুত্রবধূ সুনীলকে পরাজিত করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। নিহতের পরিবার অভিযোগ করছে, ‘এই হত্যাকাণ্ডে সুনীলের হাত রয়েছে।’ নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গণৌর থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের খোঁজে শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায় নি কাউকেই।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে সোনিপত জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনার পর শহরের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে, ফরেনসিক দল প্রমাণ সংগ্রহ করছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। রামচরণের ছেলে অভিযোগ করেছেন, ‘বাবা রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তবু তাঁর জনপ্রিয়তা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকের চোখে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ প্রশাসনের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রতিশোধের রেশ আরও বাড়তে পারে, তাই শহরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!