- দে । শ
- জানুয়ারি ১১, ২০২৩
১২০ ভিডিওয় ‘জিলিপি বাবা’-র কীর্তিফাঁস।মন্দিরের ভেতরে ফূর্তিঘর, ধর্ষণ শতাধিক মহিলাকে
স্বঘোষিত তান্ত্রিকের দরবারে কেন এত ভক্ত সমাগম?
অর্থকষ্টের চাপে একসময় রাস্তায় বসে ,বাজারে ঘুরে ঘুরে জিলিপি বিক্রি করতেন বিল্লু ওরফে অমরবীর। পরে তন্ত্রসাধনা করে সুপরিচিত তান্ত্রিক হয়ে ওঠেন। তখনই তার স্বরূপ বেরিয়ে আসে। নিজের বাসভবনের কাছে প্রতিষ্ঠা করলেন মন্দির। দর্শন লাভের জন্য তার কাছে ছুটে যেতেন অসংখ্য মহিলা। তিনি তাদের মুক্তির দিশা বাতলে মন্দিরের গোপন ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতেন। একবার নয়, একাধিকবার। এভাবে তার অপকর্মের শিকার হন শতাধিক মহিলা। ধর্ষণের ছবি তুলে রাখতেন বাবা। ভিডিও দেখে পুলিশের মাথায় হাত, জিলিপি বাবার এত কুকীর্তি!
বাবার আদিবাড়ি পাঞ্জাবের মানসা গ্রামে। পরে চলে আসেন হরিয়ানার তেহানা গ্রামে। সেখানেই জিলিপি বিক্রি করতেন তিনি। পরে স্বঘোষিত তান্ত্রিক বাবা ওখানেই একটি মন্দির স্থাপন করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তার কীর্তির কথা জেনে গুঞ্জন করতে শুরু করলেন।কেউ কেউ অভিযোগ জনালেন পুলিশকে। তার নির্দেশি ভক্তরা প্রকাশ্যে বলতে থাকেন বাবা অনেক তথ্য আগাম জানিয়ে দিতে পারেন। পুলিশ এসব গুরুকীর্তনে কান দেয়নি। খবর পায় , ভিন্ন রাজ্য থেকে মহিলারা তার কাছে আসতেন। কথার মারপ্যাঁচ আর রহস্যময়তা তৈরি করে তিনি তাঁদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখতেন। পরে মাদক খাইয়ে ফূর্তিঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতেন। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি হরিয়ানার তেহানা পুলিশ তাকে ভিডিওসহ গ্রেফতার করে। তদন্তের পর তদন্ত। পুলিশের হাতে আসে ১২০ ভিডিও। মোবাইলে কদর্য আচরণ আর ধর্ষণের ছবি তুলে রাখতেন বাবা নিজেই। অভিযোগ আর তথ্যের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর জেলে আটকে রাখার নির্দেশ দেন ফতেহাবাদের জেলা বিচারক।
জিলিপি বাবার ৪ মেয়ে, ২ ছেলে। স্ত্রী মারা যান বহু বছর আগে। হরিয়ানার তেহানায় এসে ১৩ বছর ধরে জিলিপি বিক্রি করতেন। আচমকা তেহানা থেকে উধাও হয়ে যান । পরে আবার তার আবির্ভাব ঘটে। পোষাকে-আষাকে তান্ত্রিক তেহানায় বাড়ি তৈরি করলেন। বাড়ির কাছে গড়ে তুললেন মন্দির। মন্দিরে ভক্ত সমাগমের জোয়ার ওঠে। তাদের অধিকাংশ মহিলা। দারিদ্র পীড়িত, শোষিত মহিলাদের বেছে বেছে ভক্তরা বাবার কাছে নিয়ে যেত। কথার মারপ্যাঁচ আর রহস্যময়তা তৈরি করে বাবা মহিলাদের গোপন কক্ষে নিয়ে যেতেন। ওই কক্ষেই চলত শারীরিক নির্যাতন আর ধর্ষণ। ২০১৮ সালে একজন মহিলা অভিযোগ করেন বাবা তাকে ধর্ষণ করেছেন মন্দিরের ভিতরে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ গ্রেফতার করে জিলিপি বাবাকে। ২০১৯ সালে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে চলে আসে। ওই ভিডিও দেখেই পুলিশ অবাক। একে এঁকে ১২০টি ভিডিওর হদিশ মেলে । এতেই প্রশাসন জানতে পারে বুজরুকি দেখিয়ে , যৌন উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে শতাধিক মহিলাকে ধর্ষণ করেছেন বাবাজি।
❤ Support Us




