Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ১৫, ২০২৬

নিরাপত্তার স্বার্থে বড় পদক্ষেপ ! চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের রাস্তা থেকে উঠল রং

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিরাপত্তার স্বার্থে বড় পদক্ষেপ ! চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের রাস্তা থেকে উঠল রং

পুজোর আগে শহর সাজাতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা! বৃষ্টিতে রঙিন রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে একের পর এক বাইক দুর্ঘটনার অভিযোগ। চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে রং তুলে বিশেষ ব্লক বসানোর উদ্যোগ, একই পথে হাঁটল আসানসোল জেলা প্রশাসনও।

উৎসবের আগে শহরের রাস্তাঘাটকে নতুন রূপ দিতে সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। রাস্তার উপর করা হয়েছিল রঙের প্রলেপ। কিন্তু সেই রংই শেষ পর্যন্ত যানবাহন চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বৃষ্টির জলে রঙিন রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় কলকাতার চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে পরপর একাধিক মোটরবাইক দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে আসে। দুর্ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাতারাতি চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের রাস্তা থেকে রং সরানোর কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বাড়াতে বসানো হয় বিশেষ ব্লক।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার দুপুরে। এক পশলা বৃষ্টির পর চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের রঙিন রাস্তার উপর জল জমে যায়। অভিযোগ, রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় পরপর একাধিক মোটরবাইক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সেই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। প্রশ্ন ওঠে, ‘অ্যান্টি-স্কিড’ বা পিছলে যাওয়া প্রতিরোধী রং ব্যবহার করা সত্ত্বেও কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল?

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সংশ্লিষ্ট দফতরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুরমন্ত্রী জানান, রাস্তার রংয়ের কারণে চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, যদি রঙের কারণে এমন সমস্যা হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মানুষের প্রয়োজন ও সুবিধাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পুরমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাতেই কলকাতা পুরসভা এবং কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। রাস্তার পিচ্ছিল ভাব দূর করা এবং যান চলাচল নিরাপদ করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়। এরপর ফ্লাইওভারের উপর থেকে রং তুলে দেওয়ার পাশাপাশি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্লক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কলকাতার ঘটনার পর একই ধরনের সমস্যার আশঙ্কায় সতর্ক হয়েছে আসানসোল জেলা প্রশাসনও। পুজোর আগে শহরের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের রাস্তাকে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। বিভিন্ন রং প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) প্রকল্পের তহবিলের অর্থে চলছিল এই সৌন্দর্যায়নের কাজ।

কিন্তু রাস্তার উপর রং করার পর থেকেই বৃষ্টির দিনে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠতে থাকে। পাশাপাশি রোদে রঙের প্রতিফলনে গাড়িচালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। ফলে সৌন্দর্যায়নের কাজ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বুধবার সন্ধ্যায় করা রাস্তার রং রাতারাতি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। সেই অনুযায়ী বুধবার সারা রাত ধরে শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের রাস্তা থেকে রং মোছার কাজ চলে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত রাস্তার রং তুলে দেওয়া হলেও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতে রাস্তা সুন্দর রাখার পাশাপাশি বৃষ্টির দিনেও যাতে যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ নিয়ে রাস্তার জন্য উপযুক্ত পিচ্ছিল-রোধী উপকরণ ব্যবহারের নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করলে বৃষ্টির জল জমলেও মোটরবাইক বা অন্য যানবাহন পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

পুজোর আগে শহরকে সুন্দর করে তোলার উদ্যোগে রাস্তায় রং করা হলেও তার ব্যবহারিক দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের দুর্ঘটনা এবং আসানসোলে রাস্তার রং তুলে দেওয়ার ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, রাস্তার উপর ব্যবহৃত উপকরণের গুণমান, বৃষ্টিতে তার কার্যকারিতা এবং যানবাহনের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চিংড়িঘাটা ও আসানসোলের ঘটনাকে ঘিরে এখন নজর তদন্ত ও বিকল্প ব্যবস্থার দিকে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না, যাতে শহরের সৌন্দর্য বজায় রেখেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়, সেটাই এখন দেখার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!