- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২০, ২০২৫
৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিল মামলার শুনানি ফের স্থগিত হাইকোর্টে। পরবর্তী শুনানি গরমের ছুটির পর
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের মামলার শুনানি চলছিল। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থীর মধ্যে ৪২,৯৪৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ৩২ হাজারের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরে চাকরি দেওয়া ৪২,৯৪৯ জনের মধ্যে প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সেই নিয়োগ বাতিল করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি নির্দেশ দেন, ওই শিক্ষকেরা সাময়িকভাবে স্কুলে যেতে পারবেন, তবে পর্ষদকে ৩ মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
তখন ওই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং চাকরিহারা শিক্ষকরা মামলায় সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেন, পরে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের কাছেই মামলা স্থানান্তর করেন। মঙ্গলবার, মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সওয়াল করেন। তিনি আদালতকে জানান, প্রথমে অভিযোগকারীদের তরফে চাকরি বাতিলের আবেদন করা হয়নি। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরও সুযোগ দিতে হবে। রাজ্যের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘নিয়োগের সময় যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তাতে কোনোরকম ত্রুটি ছিল না।’ এই বিষয়ে বিচারপতি চক্রবর্তী প্রশ্ন করেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর সময় কী কী নির্ভরযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’ উত্তরে পর্ষদ জানায়, ১ লক্ষ ২০ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, ৪২,৯০০টি শূন্যপদ ছিল । পর্ষদের আইনজীবী বলেন, ‘বেশি নম্বর দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাতিল করা উচিৎ নয়। কয়েকজনের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে গোটা প্রক্রিয়াকে সন্দেহের তলে আনা ভুল।’
পর্ষদের দাবি, সরকারী আধিকারিকরা দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তা কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নয়। পর্ষদের দাবি, এই অভিযোগগুলি অনুমান এবং গুজবের ভিত্তিতে ওঠানো হয়েছে। তাঁরা বলেন, ‘এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, টাকা দিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এইসব অভিযোগ অনুমান মাত্র।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। ২০১৬ সালে পর্ষদ ৪২,৯৪৯ জন শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। যাদের মধ্যে প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকদের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার। সেই নিয়োগে ভুল ত্রুটি এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০২৩ সালের মে মাসে ওই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে, ওই নির্দেশের পর চাকরি হারানো শিক্ষকরা পুনরায় আবেদন জানিয়ে মামলা করেন। এই মামলায় ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্য। এদিনের শুনানি শেষে বিচারপতিরা জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানি গ্রীষ্মের ছুটির পর হবে।
❤ Support Us





