Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

এসএসসি পরীক্ষা-প্রস্তুতির ছুতোয় আইএসের হয়ে বোমা তৈরি, রাঁচির হোটেল বসে জঙ্গি নিয়োগ ! বিস্ফোরক-সহ ধৃত ‘অ্যাসপির‍্যান্ট’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এসএসসি পরীক্ষা-প্রস্তুতির ছুতোয় আইএসের হয়ে বোমা তৈরি, রাঁচির হোটেল বসে জঙ্গি নিয়োগ ! বিস্ফোরক-সহ ধৃত ‘অ্যাসপির‍্যান্ট’

সরু রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক জরাজীর্ণ হোটেল। বাইরে থেকে দেখলে পুরনো রঙচটা দেওয়াল, নড়বড়ে কাঠের দরজা, আর ভিতরে কয়েকটি ছোট ছোট ঘর, সব মিলিয়ে যেন এক উপেক্ষিত প্রান্তিক আশ্রয়স্থল। অথচ সেই পুরনো কাঠের ১৫ নম্বর দরজার আড়ালেই গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র। রাঁচির ইসলামনগরের ‘তবারক লজ’ থেকে উদ্ধার হল বিস্ফোরক, বন্দুক, নিষিদ্ধ নথিপত্র এবং বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান। পুলিশ বলছে, এই ঘরেই তৈরি হতো ভয়ানক বিস্ফোরক। আর তা পরীক্ষা করা হতো কাছেই বয়ে চলা সুবর্ণরেখা নদীতে। একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সেখানে, যাতে কার্যকারিতা বুঝে নেওয়া যায়।

ঘরের ভিতরে থাকতেন আশহর দানিশ নামে এক যুবক। বাইরের পরিচয়, কেন্দ্রীয় স্তরের সরকারী চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এক পরীক্ষার্থী। কিন্তু ভিতরের পরিচয়, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর সক্রিয় সদস্য, যিনি শুধু বোমা তৈরি করতেন না, অন্যদের নিয়োগেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আফতাব কুরেশি নামে এক সন্দেহভাজন জঙ্গি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে আসে আশহর দানিশের নাম। এরপর দিল্লি পুলিশ এবং ঝাড়খণ্ড অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাঁচির তবারক লজ থেকে দানিশ-সহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে।

তল্লাশিতে উদ্ধার হয় পটাশিয়াম নাইট্রেট, অ্যাসিটোন পারঅক্সাইড, পিইটিএন-সহ একাধিক মারাত্মক রাসায়নিক। সঙ্গে মেলে দেশি বন্দুক, ছুরি, এবং বিস্ফোরক তৈরির নির্দেশাবলি। এ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র। তদন্তকারীদের দাবি, ১৫ নম্বর ঘর শুধু বিস্ফোরক তৈরির ঘাঁটি নয়, এই ঘরটিই ছিল কার্যত আইএস-এর ‘লোক নিয়োগ কেন্দ্র’। সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে সিগনাল অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে দানিশ নতুন সদস্য সংগ্রহ করতেন। গ্রুপের নাম দেওয়া হত ‘ইন্টার্ন ইন্টারভিউ’, ‘বিজনেস আইডিয়া’-র মতো নিরীহ কিছু, যাতে নজর না পড়ে। এসব গ্রুপেই চলত তহবিল সংগ্রহ, যার টাকায় কেনা হতো ছুরি, রাসায়নিক এবং অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী। এমনকি অনলাইনে অর্ডার করা হত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

পুলিশের দাবি, দানিশ ও তার সঙ্গীরা বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মীয় স্থানে হামলার ছক কষছিলেন। ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের কিছু জায়গায় বিশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিজেপির কয়েক জন শীর্ষ নেতাকে টার্গেট করে হামলার পরিকল্পনাও ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ সূত্রে আর জানা যাচ্ছে, ওই হোটেলের ১৫ নম্বর ঘরের সামনে প্রায়ই ভিড় লেগে থাকত। পড়ে থাকত কয়েক জোড়া চটি। নিয়মিত যাতায়াত ছিল অচেনা মুখের। ভিতরে চলত বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনার বৈঠক। প্রশ্ন উঠছে, একজন সাধারণ ছাত্র কীভাবে এ ভাবে সন্ত্রাসের পথে জড়িয়ে পড়ল? পুলিশের অনুমান, দানিশ প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আইএস প্রচারাভিযানের মাধ্যমে প্রভাবিত হন। পরে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি নির্দেশে সক্রিয় হন এই অপারেশনে। এখন তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদেরও নজরে রেখেছে গোয়েন্দারা। দানিশদের এই মডিউলে ছিলেন আরও কয়েক জন—সুফিয়ান খান, মহম্মদ হুজাইফ ইয়ামান, কামরান কুরেশি। সকলের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গোটা নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!