Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৮, ২০২৩

জবরদখলকারীদের উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি। বুলডোজার অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়েই উচ্চ আদালতে প্রশ্নের মুখে খট্টর প্রশাসন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জবরদখলকারীদের উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি। বুলডোজার অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়েই উচ্চ আদালতে প্রশ্নের মুখে খট্টর প্রশাসন

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হল খট্টর প্রশাসনের অবৈধ বসতি উচ্ছেদের নামে বুলডোজার অভিযান। গত কয়েকদিন ধরে জবরদখলের অভিযোগে নুহ জেলার কয়েকজন বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করছিল রাজ্য সরকার। সরকারি প্রচেষ্টায় এখণো পর্যন্ত ৩৫০টি বস্তি এবং ৫০টি পাকা ঘর ভাঙা হয়েছে। কিন্তু সোমবার উচ্চ আদালতের আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত রায়েএই অভিযানের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। । প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ডেপুটি কমিশনার ধীরেন্দ্র খাদগাতার কাছে ইতিমধ্যে বুবন্ধের নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। আর তিনিও সেই রায় মাফিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার দরুণ আর কোনো বাসিন্দাকে তার ঘর ছাড়তে হবে না। তবে, এলাকায় এখনো থমথমে পরিবেশ রয়েছে।

সোমবারে রায় জানানোর পাশাপাশি বুলডোজার অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেছেন, শুধুমাত্র কোনো একটি সম্প্রদায়কে তাঁদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে কেন? কেন তাঁদের বাড়ি কেবলমাত্র সরকারি ফতোয়ার শিকার? কার্যত বিচারপতির মন্তব্যে রয়েছে কোনো সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণভাবে নিকেশ করে দেওয়ার ইঙ্গিত। প্রসঙ্গত, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরেই উত্তপ্ত হরিয়ানা। অশান্তির জেরে দুজন হোমগার্ড সহ চারজন মারা গিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছে। তাই তার পুনঃস্থাপনের কারণ দেখিয়ে চারদিন আগে বেআইনিভাবে বসতি স্থাপনের অভিযোগে ‘জবরদখলকারী’-দের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। সমালচনায় সরব হয় বিরোধীরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল-ভিজের সাফাই, দাঙ্গাবাজদের ওপর যথাযথ ‘ওষুধ’ প্রয়োগ করার জন্যই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্যই এখন প্রশ্নের সম্মুখীন।

আদালত আরো জানিয়েছে, যে সমস্ত বাড়ি বা ঝুপড়ি ভাঙা হয়েছে, তা আইনি প্রক্রিয়া বহির্ভূত। তার কারণ এ নিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি প্রশাসন। সরকারের দাবি, যেসমস্ত দোকান বা বাড়ি ভাঙা হয়েছে, তাঁর মালিক সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত। এ ব্যাপারে হরিয়ানা যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত, সেই সঙ্গে তাদেরকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, এখনো পর্যন্ত কজনের আবাসস্থলে বুলডোজার চালানো হয়েছে । তাঁর ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে  ডেপুটি কমিশনার ধীরেন্দ্র খাদগাতাতিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কাউকে টার্গেট করা হয়নি, অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হচ্ছিল । এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এমন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।  যদিও বিরোধীরা তা স্বীকারে করেনি। একটি নির্দীষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তাঁদের মত। এক্ষেত্রে বলা দরকার   ৩১ জুলাই নুহ থেকে যে হিংসা ক্রমে  গুরুগ্রাম ও পরে অন্যান্য জায়গায়  ছড়িয়ে পড়েছিল তা  রুখতে  জারি  করা হয়েছিল ১৪৪ ধারা। প্রশাসনের তরফে  সোমবার এক  জানানো হয়েছে, এ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আপাতত  ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হল। তবে, এতে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির  উন্নতি হবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!