- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ৩০, ২০২৫
মেলিসার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হাইতিতে নিহত ২৫। জামাইকায় ৩০, অসংখ্য নিখোঁজ
হারিকেন মেলিসার তাণ্ডবে বিধ্বস্ত জামাইকা ও হাইতি। এই শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাবে জামাইকায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ। হাইতিতে নিহতের সংখ্যা ২৫। নদীর জল প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে বাড়িঘর। নিখোঁজদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে দেশের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা দেশের প্রশাসনের।
মেলিসার প্রভাবে বুধবার ভোর থেকেই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয় হাইতিতে। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে লা ডিগু নদীর জল উপচে পড়ে। যার ফলে দক্ষিণ উপকূলীয় শহর পেটিট–গোয়ে ভেসে যায়। অসংখ্য বাড়ি জলের নীচে ডুবে যায়। পেটিট–গোভে শহরের মেয়র জিন বার্ট্রান্ড সুব্রেম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘হারিকেন মেলিসার প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে লা ডিগু নদী উপচে পড়ে। অসংখ্য বাড়ি ধসে গেছে। প্রায় ২৫ জন মারা গেছে। ধসে পড়া বাড়ির নীচে এখনও অনেক মানুষ আটকে পড়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে আমাদের জরুরিভাবে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন।’
রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাং সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতায় আগে থেকেই জর্জরিত হাইতি। দেশের জন্য বন্যা আরও ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি বয়ে নিয়ে এসেছে। র লক্ষণ। পেটিট–গোয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায কর্তারা আশঙ্কা করছেন যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শহরের মেয়র সুব্রেম বলেন, ‘মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা হচ্ছে। এটা এমন একটা দুর্যোগ, যা আমাদের শহর কখনও ভুলতে পারবে না।’
মেলিসা ক্যারিবীয় অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলির মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যেই জামাইকা এবং পূর্ব কিউবাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একাধিক দ্বীপ প্রায় নিশ্চিহ্ন। মার্কিন জাতীয় হারিকেন সেন্টার অনুসারে, মেলিসা বুধবার ভোরে পূর্ব কিউবা থেকে দক্ষিণ–পশ্চিম আটলান্টিকের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। মঙ্গলবার জামাইকায় আঘাত হানার সময় মেলিসার গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১৮৫ মাইল, যা দ্বীপের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী। পূর্ব কিউবা থেকে হাইতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ১০০ মাইল।
সামান্য দুর্বল হওয়ার আগে ঘূর্ণিঝড়টি সান্তিয়াগো দে কিউবা থেকে প্রায় ২৫ মাইল পশ্চিমে কিউবার গুয়াম অঞ্চলে স্থলভাগে আঘাত হানে। তখন এর গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১২০ মাইল। ঝড় আসার আগেই ৭,৩৫,০০০ এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে কিউবার উপকূল অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সরকার তীব্র বন্যা এবং ভূমিধসের জন্য আগাম প্রস্তুত থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে পার্বত্য সিয়েরা মায়েস্ত্রা রেঞ্জে এবং পূর্ব কিউবার বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের শেয়ার করা একটা ভিডিওতে দেখা গেছে, সান্তিয়াগোর রাস্তা দিয়ে কাদাজল বয়ে চলেছে। বাসিন্দারা হাঁটু সমান জলের মধ্যে হেঁটে যাচ্ছেন। প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, মেলিসা সান্তিয়াগো দ্বীপের চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও খারাপ করেছে। যা ইতিমধ্যেই খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
কিউবায় আঘাত হানার আগে মেলিসা জামাইকাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। প্রায় ৩০ জন নিহত। স্থানীয় কর্তারা জানিয়েছেন, সেন্ট এলিজাবেথের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় প্যারিস জলের তলায় চলে যায়। প্রধান হাসপাতাল, বাড়িঘর এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার জল প্রবেশ করে মন্টেগো বে–র বিমানবন্দর ডুবিয়ে দিয়েছে এবং কাচের প্যানেল ভেঙে দিয়েছে। এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে, ছাদ ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তাগুলি নদীতে পরিণত হয়েছে। জামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস জানিয়েছেন, ‘পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বেশকিছু প্রাণহানি ঘটেছে। আমাদের দেশ হারিকেন মেলিসায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে আমরা পুনর্নির্মাণ করব।’ ঘূর্ণিঝড়টি এখন উত্তর–পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মেলিসা স্থলভাগে আঘাত হানার আগে বাহামা দক্ষিণ দ্বীপপুঞ্জ থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ।
❤ Support Us






