- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৭, ২০২৫
জোর করে স্বামীকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, উদ্ধারের জন্য বিদেশমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন স্ত্রী
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে কিছুদিন আগেই ইউক্রেন সেনার হাতে বন্দী হয়েছেন এক ভারতীয়। ওই ভারতীয় যুবকের দাবি, তাঁকে জোর করে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়েছিল। এবার আরও এক ভারতীয়কে জোর করে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর খবর প্রকাশ্যে এল। মহম্মদ আহমেদ নামে হায়দরাবাদের এক ব্যক্তিকে জোর করে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে পাঠিয়েছে রাশিয়া। স্বামীকে উদ্ধারের জন্য ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে তাঁর কাছে চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী।
হায়দরাবাদের বাসিন্দা আফশা বেগম বিদেশমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, মুম্বইয়ের ট্রাস্ট কনসালটেন্সি নামে এক পরামর্শদাতা সংস্থা কর্তৃক নির্মাণ কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পর তাঁর স্বামী মহম্মদ আহমেদ এবছর ২৫ এপ্রিল রাশিয়া যান। এই সংস্থাটি আদিল নামে এক ব্যক্তি পরিচালনা করেন। আহমেদ ছাড়া আরও প্রায় ৩০ জনকে নির্মাণ সংস্থায় কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের একট প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে প্রায় জোর করে ২৬ দিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৩০ জন ভারতীয় ছিল।
আফশা বেগম আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর স্বামী এবং অন্যদের পরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমার স্বামী সেনাবাহিনীর গাড়ি থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার ডান পা ভেঙে যায়। আমাকে ফোন করে বলেছিল, ইউক্রেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তার দলের প্রায় ১৭ জন মারা গেছেন এবং স্বামীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, হয় ইউক্রেন সেনার সঙ্গে লড়াই করতে হবে, নাহলে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।’
মহম্মদ আহমেদের স্ত্রী বলেছেন, তাঁর স্বামী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বাড়িতে রয়েছেন আহমেদের পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধা মা, তিনি এবং দুই নাবালক সন্তান, জোয়া বেগম (১০) এবং মহম্মদ তৈমুর (৪)। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে জরুরি সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়ে তিনি বিদেশ মন্ত্রকের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসকে তাঁর স্বামীর সন্ধান এবং উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে অনুরোধ করা হচ্ছে যেন আমার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে উদ্ধার করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।’ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর স্বামীর ফোন নম্বরও শেয়ার করেছেন।
❤ Support Us






