- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১, ২০২৫
ভারত বাংলাদেশে থাকবে না কাঁটাতার, পদ্ম সাংসদের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়। ‘এটা দেশপ্রেম নয়, প্রত্যারণা’ বললেন অভিষেক
রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে প্রবল আলোড়ন। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের সীমান্তঘেঁষা গেদের মাটিয়ারি বানপুর পঞ্চায়েতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এমন একটি বক্তব্য দেন যা রাজনৈতিক মহলে বিস্ফোরণের মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য সহ প্রায় একশো জন পুরুষ ও মহিলা বিজেপিতে যোগ দেন। ঠিক সে সময় জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়েই সাংসদ বলেন, ‘বাংলা ভাগ হবে না, এক হবে! ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া থাকবে না। এক ছিল, আগামী দিনে আবার এক হয়ে যাবে।’
ভিডিওটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল, যদিও এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। জগন্নাথ সরকার শুধু সীমান্ত তুলে দেওয়ার কথাই বলেননি, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করে বলেছেন, ‘তৃণমূল জিতলেও কাঁটাতারের বেড়া থাকবে না, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হয়ে যাবে।’ একাধিক দল ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক, প্রশ্ন ওঠে, একজন সাংসদ কীভাবে দেশের সীমান্ত নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন? বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত কি কেবল রাজনৈতিক ভাষণ, না কি এর পিছনে গভীর কোনও বার্তা লুকিয়ে আছে? তৃণমূলের অভিযোগ, সাংসদের এমন মন্তব্য ‘দেশবিরোধী ও বিপজ্জনক’। শাসক দলের এক স্থানীয় নেতা বলেন, ‘একজন সাংসদ হয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং তা দেশের অখণ্ডতা নিয়ে খেলাচ্ছলে কথা বলার সামিল। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি বাংলার মাটিতে বিভাজনের রাজনীতি ছড়াতে চাইছে এবং সীমান্তের মতো সংবেদনশীল ইস্যু ব্যবহার করছে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য।’ অন্যদিকে, বিজেপির এক রাজ্যস্তরের নেতা দাবি করেছেন, জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যের ‘ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে’। তাঁর কথায়, ‘তিনি একতার বার্তা দিতে চেয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে সেটিকে বিকৃত করা হচ্ছে।’ তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্ত রাজনীতি নিয়ে এমন বক্তব্য রাজ্য বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
The HYPOCRISY of the BJP leadership has fallen to new depths. @BJP4India MP from Ranaghat, Jagannath Sarkar declares that if the BJP COMES TO POWER, there will be no borders between INDIA AND BANGLADESH- both nations will become ONE again!
On the other hand, the same BJP… pic.twitter.com/p6UbuILgg8
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) November 1, 2025
বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে লেখেন, ‘বিজেপি নেতৃত্বের কপটতা নতুন নীচু স্তরে পৌঁছেছে। রাণাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার ঘোষণা করছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আর সীমান্ত থাকবে না, দুই দেশ এক হয়ে যাবে! অথচ একই বিজেপি নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দোষ দিচ্ছে সীমান্ত রক্ষা না করার জন্য! এ কেমন ভণ্ডামি?’ অভিষেকের বক্তব্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের অখণ্ডতার সঙ্গে এভাবে খেলা করা কীভাবে দেশপ্রেমের পরিচায়ক হতে পারে ? তিনি বলেন, যদি বিজেপি সত্যিই দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতায় বিশ্বাস করে, তবে অবিলম্বে ওই সাংসদকে দল থেকে বরখাস্ত করতে হবে। অন্যথায়, এটা প্রমাণিত হবে যে জগন্নাথ সরকারের এই মন্তব্য আসলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলেছেন, ‘এটা দেশপ্রেম নয়, এটা প্রতারণা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ‘এসআইআর’-এর নামে বোকা বানানোই এখন বিজেপির রাজনীতি। এটা দেশভক্তি নয়, ভণ্ডামি ও প্রতারণার বিষমিশ্রণ।’
বিজেপি সাংসদের মন্তব্যের পর শুধু রাজনীতিতেই নয়, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক হয়েছে, কারণ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে এমন মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘যদি সাংসদ সত্যিই কাঁটাতার তুলে দেওয়ার কথা বলেন, তাহলে সেটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন—এটা হাস্যরসের বিষয় নয়।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে মন্তব্য করে জগন্নাথ সরকার রাজ্য বিজেপিকে কঠিন অবস্থায় ফেলে দিয়েছেন। কেন্দ্র যেখানে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করছে, সেখানে একই দলের এক সাংসদ যদি বলেন সীমান্ত তুলে দিতে হবে, তা নিঃসন্দেহে ‘কপটতার নতুন গভীরতা’ প্রকাশ করে। সার্বিকভাবে এ বিতর্কে স্পষ্ট হয়েছে, সীমান্ত রাজনীতি এখন বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জ্বলন্ত। একদিকে বিজেপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে তৃণমূল এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপির জাতীয়তাবাদী অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে তুলছে। এর মধ্যেই জনসাধারণের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ—রাজনৈতিক লড়াইয়ের এ তপ্ত আবহে দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্তের মর্যাদা কি কেবল রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার বিষয় হয়ে পড়ছে না?
❤ Support Us






