- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫
কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ ছত্তিশগড়ে একসঙ্গে আত্মসমর্পন ৭১ জন মাওবাদীর
নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। বুধবার ছত্তিশগড়ের নকশাল অধ্যুষিত দান্তেওয়াড়া জেলায় একসঙ্গে ৭১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে ৫০ জন পুরুষ এবং ২১ জন মহিলা। হিংসার পথ ত্যাগ করে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই আত্মসমর্পনকারী মাওবাদীরা। এদের মধ্যে ৩০ জনের মাথার জন্য ৬৪ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে হয়েছিল।
দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার গৌরব রাই এই মাওবাদীদের আত্মসমর্পনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আত্মসমর্পনকারীরা মাওবাদী আদর্শে হতাশ। ওদের দাবি, এই আদর্শ ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা বস্তার রেঞ্জ পুলিশ কর্তৃক চালু করা পুনর্বাসন অভিযান ‘লন ভারাতু’ এবং ‘পুনা মার্গেম’ এবং রাজ্য সরকারের নতুন আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতিতে মুগ্ধ।’ তাই আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী একটা ছেলে এবং ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুজন নাবালিকা মেয়েও রয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বামন মাদকাম (৩০) এবং মানকি ওরফে সামিলা মান্ডাভির (২০) জন্য ৮ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। এছাড়া শামিলা ওরফে সোমলি কাওয়াসি (২৫), গাঙ্গি ওরফে রোহনি বারসে (২৫), দেব ওরফে কবিতা মাদভি (২৫) এবং সন্তোষ মান্ডবী (২০), প্রত্যেকের মাথার জন্য ৫ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
গৌরব রাই বলেন, ‘এরা ছাড়াও অন্য এক মাওবাদীর নামে ৩ লক্ষ টাকা, ৬ জন ক্যাডারের নামে ২ লক্ষ টাকা, ৯ জন ক্যাডারের নামে ১ লক্ষ টাকা এবং ৮ জন ক্যাডারের নামে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। বামন, শামিলা, গাঙ্গি এবং দেবের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বাকিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় রাস্তা খনন, গাছ কাটা, মাওবাদীদের ব্যানার, পোস্টার এবং লিফলেট লাগানোর সঙ্গে জড়িত ছিল।’
দান্তেওয়াড়া জেলার পুলিশ সুপার আরও জানান, ‘‘এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ২০২০ সালের জুন মাসে শুরু হওয়া ‘লোন ভারাতু’ (স্থানীয় গোন্ডি উপভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, যার অর্থ বাড়িতে কিংবা গ্রামে ফিরে যান) অভিযানের অধীনে জেলায় এখনও পর্যন্ত ১,১১৩ জন মাওবাদী হিংসা ত্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরে এসেছে, যাদের মধ্যে ২৯৭ জনের জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।’ আত্মসমর্পণকারী সকল মাওবাদীকে ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের নীতি অনুসারে তাদের আরও পুনর্বাসিত করা হবে।
পুলিশের দাবি, ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলায় এক সংঘর্ষে নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)–এর সাংগঠনিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের তদারকির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দুই সিনিয়র মাওবাদী নেতার সাম্প্রতিক মৃত্যুতে সংগঠন ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। নিহত রামচন্দ্র রেড্ডি (৬৩) এবং সত্যনারায়ণ রেড্ডি (৬৭) দুজনই নিষিদ্ধ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। দুজনেরই মাথার দাম ছিল ১.৮০ কোটি টাকা। সোমবার ফরাসবেদা এবং টয়মেটা গ্রামের পাহাড়ের জঙ্গলে তাঁদের হত্যা করা হয়।
❤ Support Us






