Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২১, ২০২৩

বাংলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ সুকান্ত, লকেটের, ডিজি জানালেন, এমন কোনও ঘটনার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ সুকান্ত, লকেটের, ডিজি জানালেন, এমন কোনও ঘটনার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি

২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মণিপুরে মহিলাদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছেন, তখন দিল্লি থেকে পালটা মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে দিল্লিতে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বাংলার সরকারের বিরুদ্ধে নারী নুর্যাতন ইস্যুতে সুর চড়ান। সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ঘটনায় মহিলাদের বিবস্ত্র করে অত্যাচার করা হয়েছে। তবে তার কোনও ভিডিয়ো না থাকায় সবাই চুপ। সুকান্তর প্রশ্ন, এদের বিচার দেবে কে?

এদিকে রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য এই প্রসঙ্গে বলেন, “যে জায়গা নিয়ে অভিযোগ সেখানে বিরোধী দলনেতা গিয়েছিলেন, কেন্দ্রের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গিয়েছিল, কোনও এই জাতীয় অভিযোগ থাকলে তাঁরা তো জানাতেন! আমরা একটা মেল পেয়েছিলাম। তাতে এক ভদ্রমহিলা ও তাঁর স্বামীকে বলেছিলাম আপনারা অভিযোগ জানান তথ্য প্রমাণ সহ। তবে কোনও অভিযোগ আসেনি। স্থানীয় থানায় বলেছিলাম অভিযোগের তদন্ত করে দেখতে, যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেই বিষয়ে, কিন্তু ওই অভিযোগের স্বপক্ষে এমন কোনও তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

এদিকে শুক্রবার দিল্লি থেকে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘’আমাদের বিপক্ষ দল মণিপুরের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মণিপুরের ঘটনা হৃদয়বিদারক। আমরা তার নিন্দা করি। এই ধরণের ঘটনা কোথাও ঘটা উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ পাঁচলায় গ্রামসভায় বিজেপির হয়ে দাঁড়ানোর জন্য এক জন মহিলা বিজেপি কর্মীকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে। এই ঘটনা কি মণিপুরের ঘটনার থেকে কম দুঃখজনক? কিন্তু এই ঘটনার কোনও ভিডিয়ো নেই। কারণ সেখানে ভিডিয়ো করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ও গুন্ডারা কাউকে অনুমতি দেয় না।”

এই ঘটনার উল্লেখ করে সুকান্তবাবু বলেন, ‘’আজ বাংলার সংবাদমাধ্যম ২টি খবর ছেপেছে। একই দিনে আলিপুরদুয়ার ও বীরভূমে ২ জন মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে। তার মধ্যে একজনকে আবার নগ্ন করে গাধার পিঠে চড়িয়ে ঘোরানো হয়েছে। কারণ যাই হোক, মহিলাদের সম্মান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যে ভাবে ছেলেখেলা হচ্ছে তা উদ্বেগের। আর এই ধরণের ঘটনা আজ থেকে নয়, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর থেকে ঘটে চলেছে।ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্টে এই কথার বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এক বিজেপি কর্মীর ছেলেকে ফোন করে তৃণমূল নেতা হুমকি দিয়েছে তোর মা-কে বল মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে নইলে ভালো হবে না। পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ওপর যে ধরণের অত্যাচার হচ্ছে তা প্রকাশ্যে এলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা দেশে মুখ দেখাতে পারবেন না।”
বাংলায় নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার দিল্লিতে দলের সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় রাজ্যে নারী নির্যাতনের ছবি তুলে ধরেন তিনি। তখনই অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেন ছোট ঘটনা, পুলিশ আমাদের অভিযোগ নেয় না। মা – বোনেদের বাঁচাতে আমরা কোথায় যাব?
এদিন লকেট বলেন, “ভিডিয়ো ভাইরাল হলে তবেই কি আমরা এই ধরণের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলব? কংগ্রেসও মমতার অপরাধে সামিল। সোনিয়া গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি চুপ কেন? বাকি রাজ্যে গিয়ে এরা কান্নাকাটি করে। কিন্তু বাংলা নিয়ে এরা মুখ খোলে না। অধীর চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করুন, ওর এলাকায় তৃণমূল কেমন অত্যাচার করছে।

একের পর এক ঘটনা ঘটছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা হয়েও চুপ। আপনারা বলুন, আমরা কোথায় যাব? আমরাও মহিলা। আমরা চাই আমাদের মেয়েদের কোনও ভাবে বাঁচাতে। আমরাও এই দেশেরই মেয়ে। পশ্চিমবঙ্গ দেশের বাইরে নয়। আমাদের এফআইআর নেয় না পুলিশ। অনেক কষ্টে পাঁচলা ও ডোমজুড়ের ঘটনায় অনলাইনে আজ এফআইআর দায়ের করা গিয়েছে।”

রাজ্যে নারী নির্যাতনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘’পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনায় আমাদের মহিলা কর্মীকে চুলের মুঠি ধরে টেনে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিল তৃণমূলের গুন্ডারা। আমরা কিচ্ছু করতে পারিনি। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম। পুলিশকে বললাম। পুলিশ বলল, আপনি এখান থেকে চলে যান।”

একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকেও কাঠগড়ায় তোলেন লকেট। বলেন, ‘’মুখ্যমন্ত্রীকে জানালে উনি বলেন, এগুলো ছোট ঘটনা। পঞ্চায়েত ভোটে ৫৭ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তার পর মুখ্যমন্ত্রী বয়ান দিলেন, পঞ্চায়েত ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। ছোটখাটো কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে। পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণের সময় বলেছিলেন ‘ছোট ঘটনা’, ‘প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক ছিল’। প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক থাকলে কাউকে অত্যাচার করে মেরে ফেলা যায় না কি?’’

লকেটের প্রশ্ন, ‘’আমরা কোথায় যাব? আমরা কেন্দ্রকে বলি। কেন্দ্র তদন্ত করে, রাজ্যের তরফে কোনও সহযোগিতা করা হয় না। পাঁচলায় আমাদের মহিলা কর্মীর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। গোটা রাজ্য মহিলাদের ওপর নির্যাতন চলছে। রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের নামে লুঠ হয়েছে।” এই অভিযোগ করে লকেট চট্টোপাধ্যায় কেঁদে ফেলেন।

এদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ শুনে তৃণমূল মুখোপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “১৫ দিন আগের ঘটনা নিয়ে এতোদিন পরে কেন অভিযোগ করছেন বিজেপি নেতানেত্রীরা? মণিপুরের ঘটনাকে চাপা দিতেই কি পশ্চিমবঙ্গের নামে এই নারী নির্যাতনের কাহিনী বানাচ্ছে বিজেপি?”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!