Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • নভেম্বর ১২, ২০২৫

নেপালে সরকারের পতনের পর প্রথম কূটনৈতিক আলোচনা, রাজধানীতে মুখোমুখি দুই প্রতিবেশী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নেপালে সরকারের পতনের পর প্রথম কূটনৈতিক আলোচনা, রাজধানীতে মুখোমুখি দুই প্রতিবেশী

মঙ্গলবার থেকে নয়াদিল্লিতে প্রথমবার কূটনৈতিক আলোচনায় মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও নেপালের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ৩ দিন ধরে চলবে এই বার্ষিক সীমান্ত বৈঠক। কাঠমান্ডুর রাজপথে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন জি’ নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে নেপালের কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়েছে সম্প্রতি। নেপালের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সীমান্ত সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা এই মুহূর্তে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতে দু-দেশই।

এই নবম বার্ষিক সীমান্ত বৈঠক চলবে ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর মহাপরিচালক সঞ্জয় সিংহল, আর নেপালের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের আর্মড পুলিশ ফোর্স (এপিএফ)-এর ইনস্পেক্টর জেনারেল রাজু আরিয়াল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত ব্যবহার করে চলা অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমন, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং সীমান্ত নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করা— এই তিনটি বিষয়েই জোর দেওয়া হবে চলতি বৈঠকে। প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে নেপালের প্রায় ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে কোনো কাঁটাতার নেই। খোলা সীমান্তের সুযোগ নিয়ে পাচার, অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, এমনকি মানবপাচারের ঘটনাও বেড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। ফলে সীমান্তের দুই প্রান্তে নজরদারি ও যৌথ অভিযান বাড়ানোর বিষয়টি এই বৈঠকের অন্যতম অগ্রাধিকার। এসএসবি এই সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে, অন্যদিকে নেপালে তার সমকক্ষ বাহিনী হিসেবে কাজ করছে এপিএফ।

গত বছর নভেম্বর মাসে শেষবার দুই বাহিনীর বৈঠক হয়েছিল কাঠমান্ডুতে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন, একদিকে নেপালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে ভারতের রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এই বৈঠকের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশের সর্বত্র হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র পথ। সীমান্তের প্রতিটি প্রবেশপথে চলছে নাকা তল্লাশি। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলা দিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভারত-নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে কোচবিহার পর্যন্ত প্রায় চার হাজার কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিএসএফ-এর ১৮টি ব্যাটালিয়ন সেখানে টহল দিচ্ছে। নেপাল সীমান্তে এসএসবি বিশেষ সতর্কাবস্থায় রয়েছে, বিশেষত উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে।

কূটনৈতিক মহলের মত, দিল্লির এই বৈঠক শুধু সীমান্ত সুরক্ষা নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত-নেপাল সম্পর্কের স্থিতি বজায় রাখার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতাই এখন দুই প্রতিবেশী দেশের সবচেয়ে বড়ো প্রয়োজন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!