- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১৮, ২০২৫
বাদল অধিবেশনের আগে ফের সক্রিয় ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেবেন মমতা-অভিষেক? আপ এখনো ‘জবাবহীন’
লোকসভা নির্বাচনের পর এবং রাজ্যগুলির আঞ্চলিক রাজনীতিতে ঠাণ্ডা দ্বন্দ্বের ফলে বেশ কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ইন্ডিয়া জোট আবার যৌথ লড়াইয়ের পথে নামছে। শনিবার সন্ধ্যায় হতে চলেছে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক। তবে মুখোমুখি নয়, বৈঠক হবে ভার্চুয়ালি। উপস্থিত থাকবেন দেশের নানা প্রান্তের আঞ্চলিক দলগুলির শীর্ষ নেতারা।
সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নিতে পারেন। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে এটাই হবে লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগদান। লোকসভা ভোটের আগে এবং পরবর্তী কয়েকটি অধিবেশনে তৃণমূল জোটের বৈঠক থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিল। সে অবস্থান বদলের ইঙ্গিত এবার স্পষ্ট। বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে কংগ্রেস। আলোচনার মূল এজেন্ডা সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে যৌথ কৌশল নির্ধারণ বলেই প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনারও সম্ভাবনা রয়েছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা ও প্রতিউত্তরে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুলতে পারে বিরোধী জোট। সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন পরে এক মঞ্চে বসে শরিক দলগুলির ভবিষ্যৎ আর রাজনৈতিক পথরেখা ঠিক করতেই এ বৈঠকের উদ্যোগ।
প্রথমে ঠিক হয়েছিল, বৈঠকটি হবে দিল্লিতে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে। কিন্তু একাধিক নেতা দিল্লি পৌঁছতে না পারার কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকার বার্তা দেন। সে কারণে সিদ্ধান্ত বদলে ভার্চুয়ালি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সুবিধা, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যস্ত নেতাদের পক্ষে অনায়াসেই অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে। ইন্ডিয়া ব্লক সূত্রে খবর, অনলাইন বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র উদ্ধব ঠাকরে এবং ডিএমকে প্রধান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। দীর্ঘদিন পরে, এবারের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসও উপস্থিত থাকবে, যা বিরোধী শিবিরে নতুন গতিবিধির ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের উদ্যোগে ডাকা বৈঠকে, আম আদমি পার্টি অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কংগ্রেসের তরফে যোগাযোগ করা হলেও আপ এখনো পর্যন্ত পরিষ্কার কোনো বার্তা দেয়নি। দিল্লি ও গুজরাটের রাজনৈতিক সমীকরণ, এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এই অনিশ্চয়তার পেছনে বড়ো কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। আপের অন্দরের মতে, ইন্ডিয়া জোট গঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র লোকসভা ভোটের জন্য, তার বাইরে একত্রে আসার খুব একটা প্রয়োজন নেই। ২৪-এর লোকসভা ভোটে একাধিক রাজ্যে ‘ইন্ডিয়া’ জোট কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায়, কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় প্রশ্ন আরো ঘনীভূত করে তোলে। যদিও সংসদে একাধিক ইস্যুতে তারা বিরোধীদের পাশে থেকেছে, যৌথ চিঠির বদলে আলাদা চিঠি দিয়েই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই পরিস্থিতিতে, বিহারে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী জোট একটি ঐক্যের বার্তা দিতে চায় বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। একইসঙ্গে বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানানোর কৌশল এবং সুর ঠিক করে নেওয়া হবে এই বৈঠকে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত বাজেট অধিবেশন এবং তার আগের শীতকালীন অধিবেশনে ইন্ডিয়া জোট কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক করেনি। সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ হয়েছে দলের মধ্যে, ছিন্ন বিচ্ছিন্নভাবে। এবার, ভোটোত্তর পর্বে বিরোধী দলগুলি ফের এক মঞ্চে এসে বসছে—এ ছবি দিল্লির রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষত, একাধিক বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে, কেন্দ্রীয় ইস্যুতে বিরোধীদের কণ্ঠ এক করার চেষ্টা যে ফের শুরু হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের অংশগ্রহণ ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের ফের একবার, এক মঞ্চে আসবার বিষয়টি আরো তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তৃণমূল এর আগে ২১ জুলাই-এর প্রস্তুতির দোহাই দিয়ে সংসদের জোট বৈঠক থেকে দূরে ছিল। কিন্তু বৈঠক ভার্চুয়াল হওয়ায়, সে বাধাও থাকলো না।
❤ Support Us





