Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫

ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে দিল্লি, বাংলাদেশের হাই-কমিশনারকে তলব। ভিসা কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য বন্ধ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে দিল্লি, বাংলাদেশের হাই-কমিশনারকে তলব। ভিসা কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য বন্ধ

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার কারণে ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন অনির্দিষ্টকালীন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর দুইটায় যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত এই কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা বুধবারের জন্য ভিসা আবেদন ‘স্লট’ বুক করেছিলেন, তাদের জন্য নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে। তবে বন্ধের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা। সূত্রের খবর, বুধবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করেছে। বাংলাদেশের নবনির্মিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপি-র নেতা হাসনাত আবদুল্লার ভারতবিরোধী বক্তব্য ও ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের উপর হামলার আশঙ্কা এই তলবের প্রধান প্রেক্ষাপট। হাসনাত সম্প্রতি তাঁর বক্তৃতায় ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে দেশের মানচিত্র থেকে আলাদা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। এহেন, মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দিল্লি। পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মূহূর্তে ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস প্রবল নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। একই দিনে হবে জুলাই সংবিধান সংক্রান্ত গণভোট। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দেশে বিক্ষিপ্ত হিংসা এবং অশান্তির ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের ভারতবিরোধী বক্তব্যও পরিস্থিতি আরো উত্তেজিত করেছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন দূতাবাসও। গত রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের ‘আশ্রয়ে থাকা’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভারতে বসে শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের নানা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান করছেন, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে সতর্ক করা হয়। এরপর নয়াদিল্লি বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে তলব করে পড়শি দেশকে কড়া বার্তা দিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন থেকে বহু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি কর্মীদেরই সেখানে রাখা হয়েছে। এরপর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চড়াই-উৎরাই-এর মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার দুই দেশ একসাথে বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, সে দিন বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ভারতের জন্যও এটি ঐতিহাসিক বিজয় দিবস। তবে এবারের বিজয় দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা নজর এড়ায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হিংসা কতটা বৃদ্ধি পেলে ভিসা কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা, ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, এ সবকিছুকে সামনে রেখে নয়াদিল্লির এ পদক্ষেপকে সতর্ক সংকেত হিসাবেই দেখা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!