Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতেই ইজরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, দেবেন ভাষণ: ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফেব্রুয়ারিতেই ইজরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, দেবেন ভাষণ: ঘোষণা নেতানিয়াহুর

চলতি মাসেই ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি নরেন্দ্র মোদি। সম্ভাব্য সফরকাল ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ সফরে তিনি ইজরায়ালের কনেসেটে ভাষণ দেবেন। বৈঠকে বসবেন বেঞ্জামিন  নেতানিয়াহুর সঙ্গে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা ও সাইবার সুরক্ষা-সহ বহু ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত মার্কিন ইহুদি সংগঠনের সম্মেলনে প্রথম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন মোদির সফরের কথা। নেতানিয়াহু জানান, ‘ইজরায়েল ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক মসৃণ। আমরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। ভারত বিশাল শক্তিশালী, ১.৪ বিলিয়ন মানুষের দেশ, অত্যন্ত প্রভাবশালী।’ এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তুলেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ সফরের কথা ভারতবাসী প্রথমে কেন জানতে পারবে বিদেশি নেতার মুখে। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর খবর ভারত বারবার বিদেশি নেতাদের মাধ্যমে প্রথমবার জানতে হয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর স্থগিত হওয়ার খবর শুনলাম মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর মুখে। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির খবর প্রথম শুনলাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায়। এবার মোদির ইজরায়েল সফরের দিনক্ষণও প্রথম জানালেন নেতানিয়াহু, যিনি গাজাকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছেন।’

২০১৭ সালের জুলাই মাসে মোদির প্রথম ইজরায়েল সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল। সে সফরের পর প্রতিরক্ষা, জলসম্পদ, কৃষি, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দু-দেশের সহযোগিতা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এই মুহূর্তে ইজরায়েল ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার। ভারত স্পাইক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল, ড্রোন ও বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ইজরায়েল থেকে কিনে থাকে। এছাড়াও, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্পও এগিয়েছে। মোদির আসন্ন সফরে এসব সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফরের পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ। গাজার পুনর্গঠনে শান্তি কমিটি গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময়ে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজর নিশ্চিত করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সফর নিয়ে সরকারি প্রস্তুতি তেল আবিবে শুরু হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আমাদের দুই প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন।’ জানা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে দু-দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা একাধিকবার একে অপরের দেশে সফর করেছেন। ভারতের পক্ষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, সেমিকন্ডাক্টর, উচ্চ প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভারতকে কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থানে রাখবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!