Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ১০, ২০২৬

নতুন প্রজন্মকে ডাকঘরমুখী করতে নয়া উদ্যোগ, বাংলায় আরও ‘নেক্সট জেন’ পোস্ট অফিসের পরিকল্পনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নতুন প্রজন্মকে ডাকঘরমুখী করতে নয়া উদ্যোগ, বাংলায় আরও ‘নেক্সট জেন’ পোস্ট অফিসের পরিকল্পনা

নতুন প্রজন্মের কাছে ডাকঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ‘নেক্সট জেনারেশন পোস্ট অফিস’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ডাক বিভাগ। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই পাঁচটি জায়গায় এ ধরনের ডাকঘর চালু হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার।

চিঠির অপেক্ষায় ডাকঘরে যাওয়া, সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা পার্সেল পাঠানোর বাইরেও ডাকঘরের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি করতে চায় ডাক বিভাগ। সে লক্ষ্যেই এ বার ডাকঘরের চেনা ছবিটা বদলে ফেলার এ উদ্যোগ। কোথাও বিনামূল্যে ওয়াইফাই, প্রিন্টিংয়ের ব্যবস্থা, কোথাও বসে কাজ করার ব্যবস্থা, আবার কোথাও চা-কফির সঙ্গে সংবাদপত্র ও পত্রিকা পড়ার সুযোগ। তরুণ প্রজন্মের কাছে ডাকঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পশ্চিমবঙ্গেও বাড়ানো হচ্ছে ‘নেক্সট জেনারেশন পোস্ট অফিস’ বা ‘এন জেন’ ডাকঘরের সংখ্যা। রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ ধরনের ডাকঘর তৈরির পরিকল্পনা করছে ডাক বিভাগ।

বর্তমানে খড়্গপুর আইআইটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এবং হলদিয়ার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ ধরনের ডাকঘর চালু হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতীর সঙ্গেও নতুন ডাকঘর খোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণবঙ্গ সার্কেলের পোস্টমাস্টার জেনারেল ঋজু গঙ্গোপাধ্যায়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে যোগাযোগের মাধ্যম। ব্যক্তিগত চিঠির জায়গা অনেকটাই নিয়েছে মোবাইল ফোন, ই-মেল এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম। একই সঙ্গে বেড়েছে অনলাইন কেনাকাটা ও বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবার চাহিদা। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের কাছে ডাকঘরের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখা ও পরিষেবার পরিধি বাড়ানোই ডাক বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ডাক কর্মকর্তারা।

ডাক বিভাগের কর্তাদের আশা, পরিচিত ডাক পরিষেবার সঙ্গে এই ধরনের আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত হলে পড়ুয়া আর তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের কাছে ডাকঘরের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এই ডাকঘর গড়ে তোলার ফলে পড়ুয়াদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে ডাকঘরের ব্যবহারও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। প্রতিটি ‘নেক্সট জেন’ ডাকঘর তৈরি করতে আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে বলে ডাক বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী পর্যায়ে এই ডাকঘর চালু হবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়াই আপাতত লক্ষ্য।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসই নয়, শহরের পুরনো ডাকঘরগুলিকেও আধুনিক করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ডাক বিভাগের। কলকাতার কাঁকুড়গাছি সাব পোস্ট অফিসের মতো বালিগঞ্জ এবং শরৎ বসু রোডের ডাকঘরকেও অত্যাধুনিক করে তোলার ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তারা। পাশাপাশি, শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা আইআইইএসটি-তে ডিজিটাল লকার-সহ ডাকঘর তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। ডাক বিভাগের কর্তাদের দাবি, মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই এই ধরনের পরিকাঠামোর নজির রয়েছে।  এ উদ্যোগের মাধ্যমে ডাকঘরকে কেবল প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়ার জায়গা হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি পরিষেবা-কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে ডাক বিভাগ। তবে নতুন পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি পরিষেবার মান বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলি সহজে পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

আধুনিক ডাকঘর তৈরির পাশাপাশি আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একাধিক পরিষেবার উপর জোর দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কেল। বিশেষ করে ই-কমার্সের পণ্য সরবরাহ আর লজিস্টিক পরিষেবার পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন কেনাকাটার বাজার যত বাড়ছে, পণ্য পরিবহণ ও নির্দিষ্ট ঠিকানায় তা পৌঁছে দেওয়ার চাহিদাও তত বাড়ছে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডাক ব্যবস্থার আয় বাড়াতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। ডাক বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছ-মাসে পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের আয় হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় আয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ। ই-কমার্সের পণ্য সরবরাহ-সহ বিভিন্ন পরিষেবার সম্প্রসারণ এই আয়ের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্তারা।

ডাক পরিষেবাকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে ডাক বিভাগ। শুক্রবার বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে জাতীয় ডাক সপ্তাহের সূচনা হয়। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। শেষ দিনে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিন ‘দুর্গাপুজো—বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ বিষয়ক একটি বিশেষ ডাক প্রচ্ছদও প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের কর্তারা জানান, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড প্রদানের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কৃষক ও জমির মালিকদের কাছে সৌরশক্তি ব্যবহারের সুবিধা ও ভর্তুকি-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে সেই তথ্য তাঁদের কাছে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। কৃষি দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি পরিষেবা ও কৃষি-সংক্রান্ত সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে ডাক ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানোর পাশাপাশি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও সহজ হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!