Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

পড়শির স্বার্থ বিরুদ্ধ কাজে কখনো মদত দেয়নি ভারত, ঢাকার অভিযোগ উড়িয়ে প্রতিক্রিয়া দিল্লির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পড়শির স্বার্থ বিরুদ্ধ কাজে কখনো মদত দেয়নি ভারত, ঢাকার অভিযোগ উড়িয়ে প্রতিক্রিয়া দিল্লির

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তোলা সমস্ত অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিল ভারত। রোববার দিল্লির বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের ভূখণ্ড কখনোই ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে দিল্লি জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটিতে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য সংসদীয় নির্বাচনের পক্ষেই রয়েছে ভারত।

এই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে ঢাকায় কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। রবিবারই বাংলাদেশ সরকার ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে। ঢাকার অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে, ঢাকার দাবি, আসন্ন ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন বানচাল করতেই তিনি নিজের দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা দিচ্ছেন। আর ভারত সরকার তাঁকে এ ধরনের বক্তব্য রাখার সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি, বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতি জারি করে তারা জানিয়েছে, ‘এসব ব্যক্তিরা আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে চাইছেন। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ বন্ধ করতে ভারতের অবিলম্বে পদক্ষেপ কাম্য।’ পাশাপাশি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র রক্ষায় নয়াদিল্লির দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকার ওই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে সব দাবি করেছে, ভারত তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছে।’ নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি সব সময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক। সে দেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজে কখনোই ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না, আগামীতেও হবে না।’ দিল্লির তরফে একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ঢাকারই। বিদেশমন্ত্রক বলেছে, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই নিয়ে পঞ্চম বার ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করল ঢাকা। এ বার শেখ হাসিনার মন্তব্য ছাড়াও তলবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গত শুক্রবার ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। তিনি এই মুহুর্তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলাকারীরা ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। যদি তা-ই হয়, তবে দোষীদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট ভারতে চলে আসেন। পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যার মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সে সময় থেকেই নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। যদিও ভারত এখনো সে দাবিতে সাড়া দেয়নি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে পরশি দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের দাবি, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং তাদের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে হাসিনার একাধিক সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকার দাবি, ভারতে বসে তাঁর এই ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। ভোটের মুখে এই কূটনৈতিক চাপানউতোর যে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলছেন কূটনীতি মহলের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!