Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৩, ২০২৫

মিশরে আয়োজিত ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এ ভারতের প্রতিনিধি কীর্তি বর্ধন সিং

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মিশরে আয়োজিত ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এ ভারতের প্রতিনিধি কীর্তি বর্ধন সিং

ফিলিস্তিন-ইজরায়েলের যুদ্ধের অবসান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠন নিয়ে মিশরের শারম-এল-শেখে আজ যখন বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা মুখোমুখি হচ্ছেন, তখন সেই তালিকায় নেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম। সূত্রের খবর, আল-সিসির তরফে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ জানানো হলেও মোদি সম্মেলনে যোগ দেননি। প্রশ্ন উঠছে, এই অনুপস্থিতির নেপথ্যে কি লুকিয়ে আছে কূটনৈতিক বার্তা?

মোদির সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাসখানেক আগে ব্রিকস নেতাদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সাড়া দেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ট্রাম্পের হঠাৎ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি—, সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এই মুহূর্তে তিক্ত। এই নিয়ে বহুবার আলোচনার পরও সমাধান হয়নি। ট্রাম্প সম্প্রতি ফের দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ঠেকাতে তাঁর হুঁশিয়ারি কার্যকর হয়েছিল। ভারত অবশ্য বরাবর এই দাবি নাকচ করেছে। নয়াদিল্লির দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল দুই দেশের সেনা প্রধানদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই, কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়। ইজরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ নিয়েও একই দাবি ট্রাম্পের। ফলে ট্রাম্পের লাগাতার ‘মধ্যস্থতাকারী শান্তিদূত’-এর দাবি এড়াতেই আজকের শারম-এল-শেখ বৈঠক থেকে দূরে থাকলেন মোদি। সম্মেলনে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের উপস্থিতিও নরেন্দ্র মোদির অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ হতে পারে।

জানা যাচ্ছে, ওই আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তিনি। রবিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে কীর্তি জানান, মিশরের রাজধানী কায়রো পৌঁছেছেন তিনি। সোমবার সকালে শুরু হচ্ছে বহুচর্চিত নেতাদের শীর্ষ বৈঠক। সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফতাহ আল-সিসি। উপস্থিত আছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। সম্মেলনে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ ফিলিস্তিন-ইজরায়েল যুদ্ধ অবসান সংক্রান্ত একটি দলিল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, মানবিক সহায়তা আর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে।

যদিও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকছে না ইজরায়েল কিংবা হামাসের প্রতিনিধিরা। হামাসের এক শীর্ষ নেতা হুসাম বাদরান জানিয়েছেন, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় আলোচনায় তারা এর আগেই অংশ নিয়েছে, এ সম্মেলনে তাদের ভূমিকা নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈঠকের প্রেক্ষাপটেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে গত ৩ দিন ধরে। সোমবার সকালে সম্মেলনের আগেই শুরু হয়েছে প্রথম দফার যুদ্ধবন্দি-বিনিময় প্রক্রিয়া। হামাস জানিয়েছে, তারা ২০ জন জীবিত ইজরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে, সঙ্গে ফিরিয়ে দেবে আরো ২৮ জনের মৃতদেহ। ইতিমধ্যেই ৭ জন যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে তাঁরা। এর বিনিময়ে ইজরায়েল প্রায় ২০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ইজরায়েলে কারাবন্দি।

সোমবার সকালে রাফা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক। খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম— সব কিছু যাচ্ছে গাজার ভিতরে, মিশরের সমন্বয়ে চলছে এই ত্রাণবাহী ব্যবস্থা। গোটা দুনিয়ার নজর এখন শারম-এল-শেখের এই বৈঠকের দিকে। প্রশ্ন একটাই, শান্তি সম্মেলন কি সত্যিই গাজা-ইজরায়েল সংঘর্ষে একটি টেকসই অবসান আনতে পারবে?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!