- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৪, ২০২৫
দূষণ কমাতে কৃত্রিম মেঘসঞ্চার, ২৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে নয়া দৌড়
বিশ্বের অন্যতম দূষিত রাজধানীর কাঁটার মুকুট দিল্লির মাথাতেই চেপে আছে বিগত কয়েক বছর ধরে। প্রতিবছরের মতো, এবারও শীতের মুখে বায়ুদূষণের শ্বাসরোধকারী কষ্টের মুখোমুখি দিল্লির আমজনতা। দীপাবলির পর থেকেই রাজধানীর আকাশে ঘন বাদামী কুয়াশা নেমে এসেছে। শুক্রবার দূষণের সূচক কিছুটা কমে অতি খারাপ থেকে ‘খারাপ’ স্তরে ওঠলেও, গত চারদিন ধরে পরিস্থিতি ছিল মারাত্মক। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টায় রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় দূষণের মাত্রা ছিল ২৯৩, যা বৃহস্পতিবার বিকেলের ৩০৫-এর তুলনায় সামান্য কম।
এই ক্রমবর্ধমান দূষণ মোকাবিলায় দিল্লি সরকার গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে, জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানান, শহরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে কৃত্রিমভাবে মেঘ তৈরি করে বৃষ্টি নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরও এ খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লির আকাশে মেঘ তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ থাকবে, তাই ২৯ অক্টোবর কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘এই কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকে ঐতিহাসিক নয়, এটি দিল্লির দূষণ কমানোর বৈজ্ঞানিক রূপরেখা প্রতিষ্ঠার সূচনা। আমাদের লক্ষ্য দেশের রাজধানীর বাতাস পরিষ্কার রাখা। একসঙ্গে উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে চাই।’
প্রসঙ্গত, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সূচক অনুযায়ী, ০-৫০ পর্যন্ত মান ‘উত্তম’, ৫১-১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১-২০০ ‘মধ্যম’, ২০১-৩০০ ‘মন্দ’, ৩০১-৪০০ ‘অতি মন্দ’ এবং ৪০১-৫০০ ‘বিপজ্জনক’। বর্তমানে দিল্লির মান প্রায় ‘অতি মন্দ’ পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ পর্যায়ে বাতাসে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কণা ভেসে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি সরকার আইআইটি কানপুরের সঙ্গে ৫টি কৃত্রিম মেঘসঞ্চারের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। আইআইটি কানপুরের অধীনে মিরাটে একটি বিশেষ বিমান রয়েছে, যা পরীক্ষামূলক মেঘসঞ্চারের সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে চলতে প্রস্তুত। আবহাওয়াবিদদের আশা, যথাযথ মেঘ ও আবহাওয়া থাকলে ২৯ অক্টোবর কৃত্রিম বৃষ্টিপাত কার্যকর হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কেবল কৃত্রিম বৃষ্টি শহরের দূষণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
দিল্লির সেন্টার ফর অ্যাটমোসফিয়ার সায়েন্সেসের দুই অধ্যাপক শাহজাদ গানি ও কৃষ্ণ আচার্য বলেছেন, ‘মেঘবীজ বপন প্রায়শই সাময়িক এবং আংশিক ফল দেয়। এটি দূষণের মূল উৎস— ফসল পোড়ানো, শিল্প কারখানা এবং ভারী যানবাহনের নির্গমন তো নিয়ন্ত্রণ করে না। প্রকৃতির উপর দীর্ঘমেয়াদে রাসায়নিকের প্রভাবও যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।’ দেশের রাজধানীর নাগরিক হিসাবে দিল্লিবাসীর মনে খানিক উত্তেজনা, খানিক অনিশ্চয়তা। কৃত্রিম বৃষ্টি আসলেই তাদেরকে স্বস্তি দেবে, নাকি শুধু প্রযুক্তির এক অভিনব প্রদর্শনী হবে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি সাহসী উদ্যোগ, তবে বাস্তবায়নের আগে বিজ্ঞান ও পরিবেশগত প্রভাব সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। কেবল একটি দিন বা দুই দিনের বৃষ্টি শহরের বাতাসে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনবে না।’ দিল্লির বিজেপি সরকারও জানাচ্ছে, এটি কেবল দীর্ঘ পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বৃষ্টি এবং অন্যান্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি মিলিয়ে শহরের বায়ু মান নিয়ন্ত্রণের বৈজ্ঞানিক রূপরেখা তৈরি করা হবে।
❤ Support Us






