Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সক্রিয় চিনা ফৌজ ! আগাম সতর্কতায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ভারতীয় সেনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সক্রিয় চিনা ফৌজ ! আগাম সতর্কতায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ভারতীয় সেনা

অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বেইজিং। চিনা সেনার অতি সক্রিয়তা ও সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করছে ভারতীয় সেনা। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ এ খবর দিয়েছেন সেনার স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের কমান্ডার-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং রানা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা জানান, বর্তমান সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, সামরিক কৌশল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সামনের লাইনেও এআই-এর প্রয়োগ ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধরণ পরিবর্তন করতে পারে। আর এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতীয় সেনা অরুণাচলে এলএসি বরাবর চিনা ফৌজের কার্যক্রম আগাম শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, খুব কম খরচে এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি এআই সিস্টেমকে ব্যবহার করে সেনারা বুঝতে পেরেছে যে, এই মুহূর্তে চিন সীমান্তরেখা বরাবর অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরির কাজও শুরু করেছে লালফৌজ। এ তথ্য আগাম জানার ফলে ভারতীয় সেনার জন্য রণকৌশল প্রণয়ন, বাহিনীকে কার্যকরভাবে স্থাপন এবং ত্যাগ পরিকল্পনা তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এর ফলে ভারতীয় বাহিনী কোনো হতাহতের সম্মুখীন হয়নি।

দীনেশ সিং রানা আরও জানিয়েছেন, শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, এআই এখন সামরিক নীতি, কমান্ড কাঠামো, অবকাঠামো এবং কর্মী উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত সিস্টেম কেবল আক্রমণাত্মক অপারেশন পরিচালনা করে না, দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও বাড়ায়। তবে, তিনি বিশেষভাবে সতর্কও করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’-এ রূপ নেয়, তা অনেক সুযোগ এবং বিপদ একসাথে তৈরি করতে পারে। এএসআই বা উন্নত এআই প্রযুক্তি খারাপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কেউ ব্যবহার করতে পারলে তা পারমাণবিক অস্ত্রের মতো বৃহৎ বিপদের সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, এআই-এর প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা পারমাণবিক অস্ত্রের মতো সহজ হবে না।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশলের প্রেক্ষাপটেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে এআই কীভাবে যুদ্ধের কৌশল ও রণকৌশলে ব্যবহৃত হয়েছে, তা ভারতের প্রতিরক্ষার জন্য শিক্ষা হিসেবে নেওয়া যায়। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনারা ‘ক্লড’ নামের এআই মডেল ব্যবহার করে কীভাবে তৎক্ষণাৎ দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে পেরেছে, এটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তির গুরুত্ব প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘যেমন আমরা দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তি, তেমনি আমরা দায়িত্বশীল এআই শক্তি হতে চাই। নয়া এই প্রযুক্তিতে উন্নত সক্ষমতা অর্জন করলে তা শুধুমাত্র দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার হবে।’ তিনি আহ্বান জানান, ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ এআই নিরাপত্তা নীতি তৈরি করতে হবে, যা অর্থনীতি, সাইবার, মহাকাশ ও সামরিক উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের এআই-চালিত পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা শুধু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় নয়, ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তারা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যুদ্ধের ধরন, রণকৌশল প্রণয়ন এবং তাত্ক্ষণিক প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। আর এ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, আধুনিক সময়ে যুদ্ধ কেবল অস্ত্র বা সেনা নয়, প্রযুক্তি এবং এআই-এর দক্ষ ব্যবহারের ওপরও নির্ভর করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!