- দে । শ বৈষয়িক
- অক্টোবর ১৪, ২০২৬
আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২% শেয়ার বিক্রিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, ৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় দায়িত্ব নিতে চলেছে কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স
কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে বুধবার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ৫২,৮৭৮ কোটি টাকার এই চুক্তিকে ‘কৌশলগত পুনর্গঠন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ধনকুবের প্রেম ওয়াটসার সমর্থনপুষ্ট ফেয়ারফ্যাক্সের হাতে ব্যাঙ্কটির মালিকানার বড় অংশ তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পদক্ষেপ বলে মনে করছে। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রে এটিই হবে সর্বকালের বৃহত্তম প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে এই লেনদেন সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই পদক্ষেপকে সরাসরি বিলগ্নিকরণ বা সরকারি শেয়ার বিক্রি হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “এটি বিলগ্নিকরণ নয়, বরং একটি পুনর্গঠন।” কারণ, এই লেনদেনের পরেও আইডিবিআই ব্যাঙ্কে কেন্দ্রীয় সরকারের বিনিয়োগ বজায় থাকবে।
একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত আইডিবিআই ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাঙ্কটির নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি। এর ফলে ব্যাঙ্কটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের মর্যাদা পায়। ফেয়ারফ্যাক্সের সঙ্গে কৌশলগত পুনর্গঠনের ঘোষণা হওয়ার আগে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে এলআইসির শেয়ার ছিল ৪৯.২৪ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ছিল ৪৫.৪৮ শতাংশ। দুই পক্ষের সম্মিলিত শেয়ারহোল্ডিং ছিল ৯৪.৭১ শতাংশ।
প্রস্তাবিত লেনদেন সম্পূর্ণ হলে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে এলআইসির অংশীদারিত্ব কমে দাঁড়াবে প্রায় ১৯ শতাংশে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে প্রায় ১৫ শতাংশ শেয়ার। ফলে ফেয়ারফ্যাক্স ব্যাঙ্কটির নতুন প্রোমোটার বা প্রধান মালিকানা-নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তবে সরকারের অংশীদারিত্ব বজায় থাকায় ব্যাঙ্কটির সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হবে না।
চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ব্যাঙ্কের নাম সংক্রান্ত শর্ত। শেয়ার কেনার চুক্তি সম্পূর্ণ হওয়ার পর থেকে তিন বছর পর্যন্ত চুক্তিটির বৈধতা বজায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন প্রোমোটার ফেয়ারফ্যাক্সকে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বর্তমান নাম অপরিবর্তিত রাখতে হবে। অর্থাৎ, মালিকানার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এলেও অন্তত তিন বছর ব্যাঙ্কটির নাম বদলানোর সুযোগ থাকছে না।
এই চুক্তির মাধ্যমে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের পথ খুলে গেল। একই সঙ্গে, ভারতের আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের ইতিহাসেও এই লেনদেন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
❤ Support Us




