- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ১৫, ২০২৫
গোপন নথিপত্র পাচারের অভিযোগ, গ্রেফতার ভারতীয় বংশোদ্ভূত এশিয়া নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাশলে টেলিস
গোপন নথিপত্র পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক, প্রতিরক্ষা কৌশলবিদ অ্যাশলে টেলিস। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অবৈধভাবে তিনি গোপন নথি মজুত করেছিলেন এবং চিনা সরকারি কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী অ্যাশলে টেলিস ভার্জিনিয়ার ভিয়েনায় নিজের বাড়িতে এক হাজারেরও বেশি পাতার গোপন নথিসহ জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্য অবৈধভাবে সংরক্ষণ করেছিলেন।
অ্যাশলে টেলিস ভারত–মার্কিন সম্পর্কের একজন পরিচিত মুখ। তিনি একাধিক মার্কিন প্রশাসনের অধীনে কাজ করেছেন। রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে কাজ করেছিলেন এবং এফবিআইয়ের হলফনামায় তাঁকে পররাষ্ট্র দফতরের একজন অবৈতনিক উপদেষ্টা এবং পেন্টাগনের নেট অ্যাসেসমেন্ট অফিসের একজন ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে টেলিসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্তা টেলিসকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, টেলিস ১৮ ইউএসসি ৭৯৩(ই) লঙ্ঘন করেছেন, যা প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত নথিপত্র অননুমোদিতভাবে দখল বা ধরে রাখা নিষিদ্ধ।
২০০১ সালে মার্কিন সরকারে যোগদানকারী অভিজ্ঞ নীতি কৌশলবিদ টেলিস ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়ে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক উভয় প্রশাসনকেই পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড শ্রেণীবদ্ধ তথ্যের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এবং ব্যতিক্রম ছাড়াই অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও টেলিসকে গ্রেফতার করা হল।
মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণকারী টেলিস সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা করেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ডক্টরেট করেন। বছরের পর বছর ধরে টেলিস মার্কিন–ভারত–চীন নীতিমালার ক্ষেত্রে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর লেখা ওয়াশিংটন, দিল্লি এবং বেজিংয়ে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হত।
আদালতের রেকর্ডে অভিযোগ করা হয়েছে যে, টেলিস ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র দফতরের ভবন থেকে গোপন তথ্য সরিয়ে ফেলেছিলেন। নজরদারি ফুটেজে দেখা গেছে যে, তিনি মার্কিন সামরিক বিমানের ক্ষমতা সম্পর্কিত গোপন ফাইল মুদ্রণের পরে একটা চামড়ার ব্রিফকেসে ভরে অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ১১ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি হয়। তল্লাসি চালিয়ে টেলিসের বাড়ির তালাবদ্ধ ফাইলিং ক্যাবিনেট, বেসমেন্ট অফিসের একটা ডেস্ক, এমনকি একট স্টোরেজ রুমে কালো আবর্জনার ব্যাগ থেকেগোপন কাগজপত্র উদ্ধার হয়।
তদন্তকারীরা বলেছেন যে, টেলিস তল্লাশির সময় সহযোগিতা করেছিলেন। তাঁর আঙুলের ছাপ দিয়ে একটা ল্যাপটপ খুলে দিয়েছিলেনএবং ফাইলিং ক্যাবিনেটের চাবি তুলে দিয়েছিলেন। এফবিআইয়ের হলফনামা অনুসারে, টেলিস তাঁর সরকারি ভূমিকার কারণে সংবেদনশীল কম্পার্টমেন্টেড তথ্য অ্যাক্সেসসহ একটা শীর্ষ গোপন নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়েছিলেন।
মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে টেলিস বেশ কয়েকবার চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআই অনুসারে, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সের এক রেস্তোরাঁয় তিনি চীনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এজেন্টরা জানিয়েছেন যে, বৈঠকের সময় টেলিসকে একটা ম্যানিলা খাম নিয়ে আসতে দেখা যায়, যা তিনি চলে যাওয়ার সময় আর তাঁর কাছে ছিল না। তার আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটন ডিসির শহরতলিতে আরেকটি নৈশভোজের আসরে টেলিস এবং চীনা কর্তারা ইরান–চীনা সম্পর্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।
দোষী সাব্যস্ত হলে, টেলিসকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ২৫০,০০০ ডলার জরিমানা এবং জড়িত উপকরণ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে এটা শুধুমাত্র অভিযোগ এবং দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত টেলিসকে নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হবে।
❤ Support Us








