Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১, ২০২৬

মাঝআকাশে ছুরিকাঘাত ! রক্তাক্ত হয়েও যাত্রীদের প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট, সাহসিকতাকে কুর্নিশ প্রধানমন্ত্রী মোদি, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মাঝআকাশে ছুরিকাঘাত ! রক্তাক্ত হয়েও যাত্রীদের প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট, সাহসিকতাকে কুর্নিশ প্রধানমন্ত্রী মোদি, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের

মাঝআকাশে চরম বিপদের মুখে পড়েও নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় লড়াই চালিয়ে গেলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। অভিযোগ, বিমানের ককপিটেই সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মচ্ছার। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয় বিমানটিকে। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করে সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, চরম বিপদের মধ্যেও গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যদের জীবন রক্ষায় তিনি অসীম সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বীরত্ব বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁর শুভকামনা জানান মোদি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুতর ছুরিকাঘাতের পরেও মচ্ছার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এর ফলে আকাশপথে সম্ভাব্য বড়ো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং ইজরায়েলি নাগরিক-সহ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মচ্ছারকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, গুরুতর আহত হওয়ার পরেও পাইলট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল। মাঝআকাশে আচমকাই বিমান থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। প্রথমে ‘৭৭০০’ স্কোয়াউক কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির আন্তর্জাতিক সংকেত। এর কয়েক সেকেন্ড পর ‘৭৫০০’ কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণত হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। এর পরেই বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয় তীব্র উদ্বেগ। অভিযোগ, ককপিটের ভিতরেই সহ-পাইলট আচমকা ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা চালান। ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে ককপিট রক্তে ভেসে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার মধ্যেই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটির অন্যান্য পাইলট ও ক্রু সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমানটিকে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। হামলার অভিযোগে সহ-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ পাইলট। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ে প্রায় চার বছর ধরে কর্মরত। তার আগে প্রায় ১০ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-এর বাণিজ্যিক উড়ানে তাঁর ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মোট উড়ান অভিজ্ঞতা প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টারও বেশি। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। মাঝআকাশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা কীভাবে সম্ভাব্য বড়ো ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!