- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
শুক্রবার বাতিল ১০০০ বিমান, ক্ষতিপূরণ চেয়ে সু্প্রিম কোর্টে আবেদন যাত্রীদের, ট্রেনে আসন বাড়াল ভারতীয় রেল
শনিবারও ইন্ডিগোর বিমান বাতিলের ঘটনা অব্যাহত। আজ সকালেও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বেশকিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিগত চার দিন ধরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হওয়া ইন্ডিগো বৃহস্পতিবার ৫৫০টি, শুক্রবার ১০০০–এরও বেশি বিমান বাতিল করে। দিল্লি বিমানবন্দর এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীদের ক্ষতির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। বিমানযাত্রীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে ভারতীয় রেল।
দিল্লি বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে শনিবার সকালে একটা বিবৃতি জারি করা হয়েছে। এক্স–এ পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ইন্ডিগোর বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে, বাড়ি থেকে বার হওয়ার আগে দয়া করে আপনার বুকিং এবং বিমানের অবস্থা পরীক্ষা করুন।’ শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিমান বাতিল করেছিল ইন্ডিগো। এই দিনটিকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দিন। এদিন ১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এদিকে, ইন্ডিগোর বিমান বাতিলের কারণে যাত্রীদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যাত্রীরা ভারতের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটা আবেদন দাখিল করেছে। আবেদনে আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং ডিজিসিএ–কে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার এবং তাৎক্ষণিক শুনানির জন্য একটা বিশেষ বেঞ্চ গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিজিসিএ পাইলটদের নতুন কাজের সময়সীমার নিয়ম বাস্তবায়নে ইন্ডিগোর ভুল পরিকল্পনাকে এই সমস্যার জন্য দায়ী করেছে।
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স আবার যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিমান চলাচল একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘৫ ডিসেম্বর ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দিন। ১ হাজারেরও বেশি বিমান বাতিল হয়। এর ফলে আমাদের গ্রাহকদের যে অসুবিধা হয়েছে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করছি, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’
ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও, শনিবার সকালেও সারা দেশের বিমানবন্দরগুলিতে ইন্ডিগোর বেশকিছু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কেরালার তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে, ৩টি অভ্যন্তরীণ আগমন এবং ৩টি প্রস্থান বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, আহমেদাবাদ বিমানবন্দর জানিয়েছে যে ৬ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টার মধ্যে, মোট ৭টি আগমন এবং ১২টি প্রস্থান বন্ধ রাখা হয়েছে, যেখানে চেন্নাই বিমানবন্দর আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৯টি বাতিলের খবর দিয়েছে।
এদিকে, ব্যাপকহারে বিমান বাতিলের পর যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় রেল দেশজুড়ে ১১৪টিরও বেশি বর্ধিত ট্রিপের জন্য ৩৭টি প্রিমিয়াম ট্রেনে ১১৬টি অতিরিক্ত কোচ জুড়ে দিয়েছে। রেলপথ মন্ত্রক জানিয়েছে, দক্ষিণ রেলওয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক ট্রেনের আসন বৃদ্ধি করেছে। এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত চেয়ার কার এবং স্লিপার ক্লাস কোচগুলি উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন রুটগুলিতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর থেকে বাস্তবায়িত এই বাড়তি কোচগুলি দক্ষিণ অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘উত্তর রেলওয়ে ৮টি ট্রেনে ৩এসি এবং চেয়ার কার কোচ যুক্ত করেছে।’
এছাড়া, পশ্চিম রেলওয়ে ৩এসি এবং ২এসি কোচ যুক্ত করে চারটি উচ্চচাহিদা সম্পন্ন ট্রেন বৃদ্ধি করেছে এবং ৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই ট্রেনগুলি পশ্চিমাঞ্চল থেকে জাতীয় রাজধানীতে শক্তিশালী যাত্রী চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পূর্ব–মধ্য রেলওয়ে ৬ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচটি ট্রিপে অতিরিক্ত ২টি এসি কোচ দিয়ে রাজেন্দ্র নগর–নয়াদিল্লি পরিষেবাকে শক্তিশালী করেছে।
❤ Support Us






