- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছল আইপ্যাক-ইডি মামলা, পরবর্তী শুনানি ১৮ ফেব্রুয়ারি
সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল আইপ্যাক কাণ্ডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দায়ের করা মামলার শুনানি। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়।
এরপর সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা প্রস্তাব দেন, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হোক। সেই আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ ১৮ ফেব্রুয়ারিকে পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে ধার্য করেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয়। সেখানে ইডির মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়।
হলফনামায় রাজ্যের দাবি ছিল—
- সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করারঅধিকারই নেই ইডির।
- ইডির তল্লাশিরপদ্ধতি ভুল ছিল।
- তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ইডির কাজে বাধা দেননি।
- অনুমতি নিয়েই তিনি পার্টি সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
রাজ্যের হলফনামা জমা পড়ার পর ইডির তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা ওই হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য এবং নিজেদের হলফনামা পেশ করতে সময় চান। ইডির সেই আবেদনের বিষয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চায় আদালত। রাজ্যের সম্মতি মেলায় শুনানি পিছিয়ে যায়।
মামলার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। ওই দিন পুরনো কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে ইডি তল্লাশি চালায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে।তল্লাশির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি কয়েকটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ওই ফাইলগুলি তাঁর দলের নথিপত্র। সেখানে নির্বাচনী রণকৌশল-সহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। মমতার অভিযোগ ছিল, ইডি ওই নথি “ছিনতাই” করার ষড়যন্ত্র করছে। দলের স্বার্থে তিনি সেই ফাইলগুলি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ইডির দাবি, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন। ইডির আরও অভিযোগ, তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
এই ঘটনার পর সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হয়। একটি মামলা দায়ের করে ইডি। অন্যদিকে ইডির তিন অফিসার পৃথকভাবে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে বারবার শুনানি পিছনোয় এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আপাতত সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।
❤ Support Us






