- বি। দে । শ
- জুলাই ১৭, ২০২৬
এবার লোহিত সাগরেও সমুদ্রপথ অবরুদ্ধের ডাক, হুথি বিদ্রোহীদের নির্দেশ ইরানের
পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে চলেছে। একেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগর অবরোধের নির্দেশ দিল ইরান। হুতিদের ইরান পরিস্কার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরে আমেরিকার প্রবেশ বন্ধ করে দিতে। লোহিত সাগরে হুতিরা অবরোধ করলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরের একটা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অবরোধ করার জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তেহরান। এইরকম ঘটনা ঘটলে, দুটি প্রধান তেল সরবরাহ পথ একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় সঙ্কট তৈরি করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সমগ্র বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান ও এই অঞ্চলের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং হুথি নেতৃত্বকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি মুখপাত্ররা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যাপারে এখনও মুখ খোলেনি। হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল–মানদেব প্রণালীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে, যে সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজগুলি লোহিত সাগর অতিক্রম করে। হুতি বিদ্রোহীরা তেহরানের চূড়ান্ত আদেশের জন্য অপেক্ষা করছে। এই বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ হরমুজ প্রণালী ইতিমধ্যেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। যদি লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের দুটি বৃহত্তম সমুদ্রপথই একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
একটি সূত্র দাবি করেছে যে, বাব আল–মানদেব কখন বন্ধ করা হবে সেই সিদ্ধান্ত ইয়েমেনে মোতায়েন থাকা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কর্তারা নেবেন। এদিকে, হুথিরা জানিয়ে দিয়েছে, তারা যে কোনও পদক্ষেপের জন্য পুরোপুরি তৈরি। এরই মধ্যে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটা বিমানবন্দরে বোমা হামলা করেছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হয়েছে।
লোহিত সাগরে জাহাজ বা তেল রফতানি পরিকাঠামো আক্রান্ত হলে এর প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। সৌদি আরব তার তেলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে রফতানি করে। তাই, সেখানে যে কোনও ধরনের বিঘ্ন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ইরান এই কৌশল ব্যবহার করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যা তেহরান ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে। আগামী দিনগুলিতে এই উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
❤ Support Us








