- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৮, ২০২৩
ইরান আদালতের নয়া ফরমান, হিজাব না পরলে যেতে হবে মানসিক চিকিৎসালয়ে
হিজাব পরিধান নিয়ে আরো কড়া হয়ে উঠছে ইরান। সাধারণত ধর্মীয় পোশাক পরিধান করানোর জন্য বলপ্রয়োগের ওপর ভরসা করে আয়াতুল্লা খোমেইনির দেশ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার হিজাব বিরোধীদের মানসিক চিকিৎসার নিদান দিল তেহরান। একই সঙ্গে যোগ করা হয়েছে, হিজাব আইন লঙ্ঘনকারীদের প্রয়োজনে মর্গ পরিষ্কার করতে হবে। সম্প্রতি, বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেল এমনই নজির। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
হিজাব পরিধান না করাটা একটা মানসিক রোগের লক্ষণ আর তার যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে করছে ইরান সরকার। যে মানসিকতার সাম্প্রতিক শিকার হয়েছেন, সেদেশের একজন অভিনেত্রী ৬১ বছরের আফশানে বায়েগন। দু’বছরের কারাবাসের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি মনোরোগবিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারকদের দাবি, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ নন। সম্ভবত, হিজাব পরিধান না করা থেকেই তাঁর মধ্যে এত বিকৃতি দেখা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে খোলা চুল নিয়ে ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। যা নজরে আসতেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশাসন। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে, দেশের চলচ্চিত্র জগতের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। কিন্তু নীতি পুলিশির থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই।
শুধুমাত্র আফশানে নন, ইরানের আর এক অভিনেত্রী আজাদে সামাদিও একই শাস্তির মুখে পড়েছেন। তাঁর ‘অন্যায়’ অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার একটি অনুষ্ঠানে হিজাবের পরিবর্তে তিনি টুপি পরে এসেছিলেন। সে কারণেই তাঁকে সমাজ বিরোধী অসুস্থ ব্যক্তিত্বের অধিকারী বলে আখ্যা দিয়েছে দেশের আদালত। তাঁকেও ‘চিকিৎসা’-র জন্য যেতে হবে মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। আবার অন্য আর একজনকে, ধর্মীয় পোষাক বিধি লঙ্ঘন করায় মর্গের মৃতদেহ পরিষ্কার করার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় হিজাব পরেননি তিনি। সেই ‘চরম অপরাধ’-এ এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে হিজাব বিরোধী আন্দোলন তৈরি হয়েছে, তাকে যে কোনো মতে রুখতে চায় প্রশাসন। যে কারণে নেওয়া হয়েছে একাধিক দমনমূলক নীতি। জেল, জরিমানা, গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া তো রয়েইছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মহিলারা যদি হিজাব না পরেন তবে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । সংবাদ সংস্থার খবর, ইরানের সংসদে জুলাই মাসের শেষে নারীস্বাধীনতা ও হিজাব সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। যা পাশ হলে,পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
অপরদিক, সুইডেনে দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। ধর্ম পালনের অধিকার যাতে সুরক্ষিত থাকে সেজন্য কোরান দহন কর্মসূচির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে এক অনন্য আন্দোলন। বিক্ষোভকারীরা চকোলেট ও ফুল নিয়ে ইসলাম বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। তাদেরকে এমন কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। উল্লেখ্য সুইডেনের সংবিধানে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অনেক বেশি পরিসর দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে, কোরান পুড়িয়ে দেওয়ার সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়েও সমালোচনাও হয়েছে প্রচুর। তাই শান্তিপূর্ণ আলোচনাতেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন হুসেইন -এল গোমতির মতো ইসলামপন্থীরা।
❤ Support Us






